X

প্রশ্নফাঁসের ছয়টি কারণ শনাক্ত

প্রশ্নফাঁসের ছয়টি কারণ তুলে ধরেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব অভিযোগের মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ব্যর্থতার বিষটিও তুলে ধরা হয়েছে। এ কারণে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন আপলোডকারীদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। সন্দেহজনক আইডিগুলোকেও শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

গতকাল মঙ্গলবার আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা ও চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করণীয় নির্ধারণ করতে আন্ত: মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্রে এসব তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক চলে।

সূত্র জানায়, সভায় প্রশ্নফাঁসের বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরা হয়। বিজিপ্রেসে প্রশ্ন কম্পোজ, এডিট, প্রিন্ট ও প্যাকেজিং পর্যায়ে প্রায় ২৫০ ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা প্রশ্নপত্র কপি করতে না পারলেও তা স্মৃতিতে ধারণ করা সম্ভব। এভাবেও প্রশ্নফাঁস হতে পারে বলে ধরণা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।এছাড়ও বিভিন্ন মাধ্যমে যখন এসব প্রশ্ন হাত বদল হয় তখনও প্রশ্ন ফাঁসের সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে ট্রেজারি বা নিরাপত্তা হেফাজত থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে অনেক কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অতিরিক্ত কেন্দ্রের অনুমতি দেয়া হয়েছে। অথচ সেখানে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব রয়েছে। এছাড়া ভেনুগুলো থেকে মূল কেন্দ্রগুলোর দূরত্ব অনেক বেশি। ফলে ৩০ মিনিটের আগে কেন্দ্র সচিব প্রশ্ন খুলতে বাধ্য হচ্ছেন। সেখান থেকেও প্রশ্নফাঁস হতে পারে। পরীক্ষার্থী বা পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্তদের স্মার্টফোন নিয়ন্ত্রক করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ছে। গুটি কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে মূল প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস কারীদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীরা তৎপরতা আরও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এটা পরীক্ষার শুররু ১৫ দিন আগে থেকেই শুরুর আগে থেকে করা হলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসকারীদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এটা পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ১৫দিন আগে থেকে সম্ভব হলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। গোয়েন্দা বাহিনীর লোকবল ও অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত স্বল্পতার কারণে কাঙ্খিত মাত্রায় নজরদাবি করা সম্ভব হচ্ছে না। দুষ্কৃতিকারীদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার ও শস্তির আওতায় আনতে না পারায় অন্যরাও অপরাধ করতে ভয় পাচ্ছে না। ফলে প্রশ্নফাঁস রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিটিআরসি কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন আপলোডকারীদের সনাক্ত করা যাচ্ছে না। এবং সন্দেহজনক একাউন্টগুলোকেও সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে চলমান এসএসসি পরীক্ষা। এরপর ২ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা।

মন্তব্য করুন

comments