রোহিঙ্গা শিবিরে পাচারকারীদের ফাঁদ, খপ্পরে কিশোরীরা

47
শেয়ার

বাংলাদেশে ক্রমেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে রোহিঙ্গা সমস্যা। প্রবল চাপের মুখে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। খুনীদের হাত থেকে পালিয়ে এলেও রেহাই মিলছে না শরণার্থীদের। এবার সন্ত্রাসবাদী থেকে শুরু করে সমাজবিরোধীদের ফাঁদে পা দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ।-খবর সংবাদ প্রতিদিন

পুলিশ সূত্রে খবর, কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে জাল ছড়িয়েছে মানব পাচারকারীরা। বিশেষ করে কিশোরী ও শিশুদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে ওই দুষ্কৃতিকারীরা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি শিশুকে অপহরণ করেছে তারা। প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা কিশোরীদের। বন্দুকের নল দেখিয়েও তাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে অপহরণকারীরা। তবে অনেক ক্ষেত্রেই স্বেচ্ছায় শিশুদের পাচারকারীদের হাতে তুলে দিচ্ছে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার। ভিটেমাটি হারিয়ে কোনওমতে প্রাণ নিয়ে বাংলাদেশে আসতে পেরেছে রোহিঙ্গারা। শেখ হাসিনা সরকারের সাহায্যে দু’মুঠো ভাত জুটলেও, প্রায় নারকীয় পরিস্থিতি শরণার্থী শিবিরগুলিতে। ফলে টাকার জন্য অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ। চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, ১২-১৩ বছর বয়সের মেয়ের জন্য তাদের পরিবারকে ৬০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪ হাজার ৮০০ টাকা) দিচ্ছে পাচারকারীরা।

সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে রোহিঙ্গা শিবিরে পরিস্থিতি জটিল। কুতুপালং শিবিরের বসে নয়ন খাতুন জানান, “শিবির থেকে তাঁর মেয়ে ইয়াসমিনকে তুলে নিয়ে যায় এক পাচারকারী। তাকে কলকাতা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন ইয়াসমিনের বয়স ছিল ১৩। নয়না আরও জানান, ভারতে আটক করা হয় ওই পাচারকারীকে। উদ্ধার করা হয় ইয়াসমিনকে। এখন কলকাতার অন্যান্য উদ্ধার হওয়া কিশোরীদের সঙ্গে নিরাপদে রয়েছে সে। আমার ভারত যাওয়ার টাকা নেই। আমার মেয়ে আমাকে সতর্ক করে দিয়েছে যেন পাসপোর্ট ছাড়া ভারতে যাওয়ার চেষ্টা না করি।” ২০১২ সালে মায়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় নয়না। ১৯৮২ সালে মায়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করায় রোহিঙ্গারা এখন আর মায়ানমারের পাসপোর্ট পাবেন না।

মন্তব্য করুন

comments