মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

54
শেয়ার

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

জাইকার ভাইস প্রেসিডেন্ট, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতসহ জাপানি প্রতিনিধিরা উপস্থিতি ছিলেন গণভবনের এ অনুষ্ঠানে। আর মহেশখালীতে ছিলেন জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ আরেকটি প্রতিনিধি দল।

জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ির এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে বাংলাদেশের অন্যতম বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প। বিদ্যুত নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনায় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়িকে ‘বিদ্যুৎ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা রয়েছে।

পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় যে বন্দর নির্মাণ করা হবে, পরে তাকে গভীর সমুদ্র বন্দরে রূপান্তরিত করা হবে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সরকার আশা করছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ হলে মাতারবাড়ি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠবে।

মহেশখালীর মাতারবাড়ি ও ঢালঘাটা ইউনিয়নের ১৪১৪ একর জমিতে এই বিদ্যুত প্রকল্পটির প্রাথমিক অবকাঠামোর ১৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে এই সি-পোর্টের। এই পোর্ট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কোল পাওয়ারের কাজ দিয়ে শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সেটি বাণিজ্যিক সি-পোর্ট হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্মাণ কাজ শুরু হল।

আবুল কাশেম জানান, মাতারবাড়ি প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে ৪০০ বিদেশি শ্রমিক এসেছে। পর্যায়ক্রমে এখানে প্রায় এক হাজার বিদেশি শ্রমিক কাজ করবে।

গুলশান হামলার ঘটনায় সাত জাপানি প্রকৌশলীর মৃত্যুর ঘটনায় মাতারবাড়ি প্রকল্পও পিছিয়ে যায়। সব সংশয়ের অবসান ঘটিয়ে গত বছরের জুলাইয়ে জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ (সিপিজিসিবিএল)।

সরকারের অগ্রাধিকারের ১০ প্রকল্পের রয়েছে খরচের দিক দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরই রয়েছে মাতারবাড়ির প্রকল্পটি।

২০১৫ সালের অগাস্টে মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ৩৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পের কার্যপত্রে বলা হয়, জাইকা এই প্রকল্পে ২৯ হাজার কোটি টাকা দেবে।

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমদানি করা কয়লানির্ভর হওয়ায় কয়লা আনার জন্যই এই বন্দর করা হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। ৫৯ ফুট গভীর এই বন্দরে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারবে।

গণভবনে অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রকল্পে নিয়ে একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ সচিব আহমেদ কায়কাউস। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

মন্তব্য করুন

comments