X

ইস্ যদি হাতি হতাম!!

গত একমাস ধরে একটা হাতির খবর বিভিন্ন গণমাধ্যম, পত্রপত্রিকা এবং ফেসবুক এর মাধ্যমে নিশ্চয় জেনেছেন অনেকে, এই একটা হাতি মোটামুটি ঘুম হারাম করে ফেলেছে বাংলাদেশের বনবিভাগের কর্মকর্তাদের এবং স্থানীয় লোকজনের। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাতি টি কে উদ্বার করেছে স্থানীয় লোকজন।

মূল ঘটনা টি অনেকটা এরকমঃ

বানের উজানের পানিতে একটা ভারতীয় হাতি বাংলাদেশে ঢুকে আটকে পরে দিশেহারা হয়ে দিগ্বিদিক ঘুরছিল, তারপর আস্তে আস্তে খাবারে অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে হাতিটি, তার পেছনে বাংলাদেশ এবং ভারতের বনকর্মীরা লেগে গেলো, এটাকে নিয়ে একপ্রকার বিপাকেই পড়ে গেলো বাংলাদেশের বনবিভাগের কর্মীরা। কোনভাবেই তারা উদ্বার করতে পারছিলনা হাতিটি কে, এরি মধ্যে হাতিটি বন্যা প্রবল এলাকাতে চলে যায়, ভারত থেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল আসলো বাংলাদেশে, এই বুনো হাতি কে মানিয়ে বাগে আনতে পোষা হাতি দিয়ে চেষ্টা করা হলো, তাও হলোনা। ভারতীয় দল ফেরত গেলো ভারতে তাদের হাতি উদ্বার না করেই। তারপর হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে গেলো হাতিটি, পরে আবার খুজেঁ পাওয়া যায়, এর মধ্যে জানানো হলো হাতি উদ্বার করতে হবে বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদেরকেই।। শেষমেশ গ্রামের কয়েকশো লোক পানিতে নেমে লম্বা রশি নিয়ে হাতির পায়ে, শূঁড়ে রশি বেঁধে টেনে তুলে হাতিটি কে। হাঁফ ছেড়ে বাচঁলো সবাই।

একটা অবলা প্রাণি যখন অসহায় অবস্থায় কষ্টকর অবস্থায় থাকে তখন যে কারোরই মায়া লাগবে সেটাই স্বাভাবিক, আমাদের ও লেগেছে। কিন্তু যখন দেখা যায়, যে বানের উজানের পানিতে ভেসে আসলো হাতিটি, যে বানের পানিতে কষ্ট পাচ্ছে হাজার হাজার বাংলাদেশী সেই বান নিয়ে এভাবে লেখালিখি হয়নি ,যেভাবে আগ্রহ নিয়ে ভারতীয় হাতিটির ব্যাপারে লেখা হয়েছে। ব্যাপারটি একটু দৃষ্টিকটুই বটে।

হাতির জন্য এই পশুপ্রেম যদি বাংলাদেশের সুন্দরবনের পশু, পাখির জন্য ও সমান ভাবে থাকতো তাহলে আরো মনে হয় ভালোই হতো, যেভাবে হাতিটির প্রতিটি মূহুর্তের তদারকি করা হয়েছে সেভাবে সুন্দরবন রক্ষায় ও যদি তদারকি করা হতো তাহলে সুন্দরবনের প্রাণিকূল হয়ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের হাত থেকে রক্ষা পেত।

এই একটি হাতি নিয়ে যে পরিমাণ লেখালিখি হয়েছে তাতে মনে হয়েছে যদি ভারতীয় হাতি হতে পারতাম মনে হয় ভালোই হতো, কিছুই না হোক সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতাম, সবাই আমার খোঁজখবর নিতে ব্যস্ত থাকতো, আমার কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা সেটা নিয়ে তটস্থ থাকতো সবাই,আমি যদি রাগ করতাম তাহলে আমার জন্য সংগিনীর ব্যবস্থা ও করা হতো, আমার জন্য তদন্ত কমিটি গঠণ করা হতো যাতে আমার কোন সমস্যা না হয়। কতইনা ভালো হতো। একজন বাংলাদেশের মানুষের সে সৌভাগ্য কোথায় যেটা একটা হাতির ভাগ্যে জুটেছে।

তাহলে হাতি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করাটা দোষের কোথায়?

মন্তব্য করুন

comments