X

গৃহকর্মী আদুরী নির্যাতন মামলার রায়; গৃহকর্ত্রীর যাবজ্জীবন

২০১৩ সালে রাজধানী ঢাকার মিরপুরের ডিওএইচএস এর রাস্তায় ময়লা ফেলার ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করা হয় নির্যাতনের শিকার আদুরীকে। এ ঘটনায় সারা দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ মামলায় প্রধান আসামি গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর সাথে ১১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া এ মামলার আরেক আসামি নদীর মা ইসরাত জাহানকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মামলাটিতে গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদী কারাগারে এবং নদীর মা ইশরাত জাহান জামিনে ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় এই মামলায় আসামি নওরিন জাহান নদীকে আদালতে হাজির করা হয়।

এছাড়া নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী আদুরী ও তার মাসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনরাও এসময় উপস্থিত ছিলেন। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আদুরীর মা। রায় ঘোষণার পর আদুরীর মা সাফিয়া বেগম বলেন, বিচারে তাঁরা খুশি।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা ও ডিওএইচএস তেলের ডিপোর মাঝামাঝি রেললাইন সংলগ্ন একটি ডাস্টবিনের পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হয় নির্যাতনে কঙ্কালসার মৃতপ্রায় গৃহকর্মী আদুরীকে। উদ্ধারের সময় তার শরীরে মারধর, গরম খুন্তির ও ইস্ত্রির ছ্যাঁকা, ব্লেড দিয়ে শরীর পোঁচানো, মাথায় কোপ, মুখে আগুনের ছ্যাঁকাসহ ছিল অসংখ্য নির্যাতনের চিহ্ন। উদ্ধারের পর প্রায় দেড় মাস আদুরীকে চিকিৎসা দেয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

ওই ঘটনায় ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর নওরীন জাহান নদী, স্বামী সাইফুল ইসলাম মাসুদ, মাসুদের দুলাভাই চুন্নু মীর ও তাদের আত্মীয় রনিকে আসামি করে মামলা করা হয়। আদুরীর মামা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। একই দিন গ্রেপ্তার করা হয় নদীকে।

এরপর প্রধান আসামি নদী ১ অক্টোবর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদুরী ২ অক্টোবর আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিল। তদন্ত শেষে ওই বছর ১০ অক্টোবর নদী ও তার মা ইসরাত জাহানকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

মন্তব্য করুন

comments