আগস্টে বসবে পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান; সেতু হবে দৃশ্যমান

120
শেয়ার

পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে সাড়ে ৪৪ শতাংশ। এ বছরের জুনে এই সেতু দৃশ্যমান করতে স্প্যান বসানোর কথা থাকলেও তা হয়ে ওঠেনি। তবে আগস্টের মধ্যে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান করতে দুই পিলারের মধ্যে স্প্যান বসানোর জন্য তোড়জোড় চলছে।

সেতুতে মোট ৪২টি স্প্যান বসবে। এরমধ্যে সাতটি স্প্যানের (সুপার স্ট্রাকচার) কাজ শেষ হয়েছে। আরও সাতটি স্প্যান স্থাপনের জন্য মাওয়া প্রান্তে প্রস্তুত আছে। ১২টি স্প্যান তৈরির কাজ শেষ হয়েছে, যেগুলো শিগগির চীন থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।

পদ্মার দুই পাড়জুড়ে (মাওয়া ও জাজিরা) চলছে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ। রোদ, বৃষ্টি ও ঢেউয়ে সঙ্গে লড়াই করে দেশি-বিদেশি শ্রমিক-প্রকৌশলীরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এই মহাযজ্ঞ। তদারকিতে যুক্ত রয়েছে সেনা বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল।

দিন-ক্ষণ এখনো ঠিক না হলেও আগস্টের যেকোনও দিন আনুষ্ঠানিকভাবে স্প্যান বসানোর কাজ উদ্বোধন করার প্রস্তুতি রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং জাজিরা পয়েন্টে স্থাপিত দু’টি পিলারের ওপর পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানোর কাজ শুরু করবেন।

ঈদের আগেই পিলারের ওপর স্প্যান বসিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু দৃশ্যমান করার লক্ষ্য ছিল। বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা নদীগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পদ্মা অন্যতম। তাই, তীব্র স্রোতের কারণে খুঁটি বসানোর কাজ শেষ করা যায়নি।

প্রকৌশলীরা জানান, সেতুর মোট ৪২টি পিলারের মধ্যে এখন কাজ চলছে ১৬টির। পিলার বসবে পাইলের ওপর এবং মোট পাইল ২৪০টি। এর মধ্যে ২৮টি পাইলের কাজ পুরোপুরি এবং ৫৭টির কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি। এসব পিলারের ওপর বসানো হবে স্প্যান। স্প্যানের ওপর ঢালাই দিয়ে গাড়ি চলাচলের জন্য উপযোগী করা হবে।

জাজিরায় ৩৭ নম্বর পিলারের নিচে রড বেঁধে ক্যাপ লাগানো শুরু হয়েছে। জাজিরা প্রান্তে ৩৭ নম্বর থেকে শুরু হবে স্প্যান বসানোর কাজ। তা একে একে পাতা হবে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত। সেখানে শুরু হয়েছে কংক্রিট ফেলার কাজ। ৩৮ নম্বর পিলারে ক্যাপ লাগানোর কাজও শুরু হয়েছে। ৩৭ থেকে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত ক্যাপ লাগানো শেষ হলেই এসব পিলারের ওপর বসানো শুরু হবে স্প্যান। নির্মাণাধীন পিলারগুলোর ওপর প্রথম দফায় কমপক্ষে পাঁচটি স্প্যান (স্টিলের কাঠামো) বসানোর প্রস্তুতি চলছে।

এ মাসেই সার্ভিস এরিয়া নির্মাণের কাজ শেষ হবে। এ যেন ধীরে ধীরে গড়ে উঠা এক নতুন শহর। অজস্র স্বপ্নকে বুকে নিয়ে যা জেগে উঠছে উত্তাল পদ্মা নদীর পাড়ে।

এর আগে এক ও দুই নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় মূল সেতু, নদী শাসন প্রকল্প ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা থাকছেন। ৩ নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় থাকার ব্যবস্থা হয়েছে সেনা কর্মকর্তাদের। আপাতত এই ৩টি সার্ভিস এরিয়া দেশি বিদেশি প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞদের আবাসন এবং গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হলেও এগুলোকে ঘিরেই পদ্মার দু’পাড়ে গড়ে উঠছে পর্যটন সম্ভাবনা। বিশেষ করে ২ নম্বর সার্ভিস এরিয়াটিকে পুরোপুরি গড়ে তোলা হচ্ছে পর্যটন বান্ধব করে। ৩ টি সার্ভিস এরিয়া নির্মাণে সার্বিক তদারকি করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেতুর কাজ শেষ হলে ৭৭ হেক্টর এলাকা জুড়ে নির্মিত ২ নম্বর সার্ভিস এরিয়ায় পর্যটকদের জন্য থাকবে আবাসনের পাশাপাশি আধুনিক সব সুবিধাই।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু এখন স্বপ্নের খোলস থেকে বেরিয়ে ও তথাকথিত কাগজ-কলমের বন্দিদশা কাটিয়ে রূপ নিয়েছে দৃশ্যমান বাস্তবতায়। এই সেতুটি পৃথিবীর অন্যতম একটি সেতু হিসেবেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে স্থাপন করতে যাচ্ছে।

মাওয়ায় এরই মধ্যে চার লেনের সংযোগ সড়ক ও টোল প্লাজার কাজ শেষ হয়ে গেছে। জাজিরায় শেষ হয়েছে চার লেনের সংযোগ সড়কের কাজ, টোল প্লাজা নির্মাণও শেষের দিকে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূল সেতুর কাজ এগিয়েছে ৪৪ শতাংশ। পুরো প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিও গড়ে ৪৪ শতাংশ।

এক নজরে পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতুর ধরণ দ্বিতলবিশিষ্ট। এই সেতু কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে।
পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।
পদ্মা সেতুর প্রস্থ হবে ৭২ ফুট, এতে থাকবে চার লেনের সড়ক।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ব্যয় (মূল সেতুতে) ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসন ব্যয় ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির নাম চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড।
পদ্মা সেতুতে থাকবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ পরিবহন সুবিধা।
পদ্মা সেতুতে রেললাইন স্থাপন হবে নিচ তলায়।

পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক দুই প্রান্তে (জাজিরা ও মাওয়া) ১৪ কিলোমিটার।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসন হয়েছে দুই পাড়ে ১২ কিলোমিটার।
দেশী-বিদেশী প্রায় ২০ হাজার কর্মীর নিরন্তর কাজ করছেন।
পদ্মা সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি।

পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা হবে ৬০ ফুট।
পদ্মা সেতুর পাইলিং গভীরতা ৩৮৩ ফুট।
প্রতি পিলারের জন্য পাইলিং হবে ৬টি।
পদ্মা সেতুর মোট পাইলিংয়ের সংখ্যা ২৬৪টি।

পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে।

মন্তব্য করুন

comments