X

ঢাকার বাইরেও ছড়াচ্ছে চিকুনগুনিয়া; দরকার সচেতনতা

নরসিংদী, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নেত্রকোনা ও জয়পুরহাট এই সাতটি জেলায় চিকুনগুনিয়ার রোগী পেয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। লক্ষণ দেখে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এরা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। তবে ওই সব জেলায় চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই।

চিকুনগুনিয়া শনাক্ত করার যন্ত্র শুধু আইইডিসিআরে আছে। তবে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) এবং বেসরকারি অ্যাপোলো হাসপাতাল জানিয়েছে, তাদেরও চিকুনগুনিয়া শনাক্ত করার যন্ত্র আছে। এই দুটি প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষার জন্য যথাক্রমে চার ও পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। আইইডিসিআরে বিনা মূল্যে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।

২০০৫ সালে ভারতে চিকুনগুনিয়া ভয়াবহ রূপ নিলে আইইডিসিআর (জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট) বাংলাদেশে জরিপ চালায়। তখন এ রোগে আক্রান্ত কোনও বাংলাদেশি পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে প্রথম ২০০৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জে প্রথম এ ভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা যায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ঢাকার দোহার উপজেলায় এই রোগ দেখা যায়। তবে এর পরে বিচ্ছিন্ন দুএকটি রোগী ছাড়া এ রোগের বড় ধরনের কোনো বিস্তার আর বাংলাদেশে লক্ষ করা যায়নি।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রতি ১১ জনে একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। আইইডিসিআরে গত সাড়ে তিন মাসে প্রায় ৩ হাজার মানুষ চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষা করিয়েছে। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৬৪৯ জনের চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়েছে।

চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশাটি সুস্থ কাউকে কামড়ালে তার শরীরেও চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ ঘটে। চিকুনগুনিয়া জ্বরের লক্ষণগুলো অন্যান্য সকল ভাইরাল জ্বরের মতোই। হাড়ের জোড়ায় তীব্র ব্যথাই এই রোগের একমাত্র স্বতন্ত্র উপসর্গ। সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়া, বমিভাব, শারীরিক দুর্বলতা, সর্দি-কাশি, র‌্যাশ ইত্যাদি উপসর্গ থাকে।

চিকনগুনিয়া থেকে বাচতে দরকার সচেতনতা

চিকিৎসকরা বলছেন, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে এবং অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। আর অস্থিসন্ধির ব্যথার জন্য ঠাণ্ডা পানির সেক ও হালকা ব্যায়াম উপকারী।

ব্যক্তিগত সচেতনতাই চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রধান উপায় । মূলতঃ মশার কামড় থেকে সুরক্ষাই চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায়। রাতের বেলায় মশারি টানিয়ে ঘুমানো, জানালায় নেট ব্যবহার করা, প্রয়োজন ছাড়া দরজা-জানালা খোলা না রাখা, শরীরে মশা প্রতিরোধক ক্রিম ব্যবহার করা— এগুলোর মাধ্যমেই এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।

একটানা তিন দিন জ্বর ও হাড়ের জোড়ে প্রচণ্ড ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এই রোগের বিশেষ কোনো ওষুধ বা টিকা নেই। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা পর কিংবা তিনবেলা প্যারাসিটামল খেতে পারেন। তবে কোনো ওষুধই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়।

অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কোনো উপকার নেই। বরং অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা মূলত উপসর্গ ভিত্তিক। এর কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম নিতে হবে, প্রচুর পানি ও তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে এবং প্রয়োজনে জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেট এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে ওষুধ খেতে হবে।

গিটের ব্যথার জন্য গিঁটের উপরে ঠাণ্ডা পানির স্যাঁক এবং হালকা ব্যায়াম উপকারী হতে পারে। তবে প্রাথমিক উপসর্গ ভালো হওয়ার পর যদি গিঁটের ব্যথা ভালো না হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। কোনো কারণে রোগীর অবস্থা অবনতি হলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।

চিকুনগুনিয়া বিষয়ে দুটি মুঠোফোনে পরামর্শ সেবার ব্যবস্থা করেছে আইইডিসিআর। ০১৯৩৭০০০০১১ এবং ০১৯৩৭১১০০১১ নম্বর থেকে সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে বলে আইইডিসিআর জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments