দিন দিন হিংস্র এবং অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে রোহিঙ্গারা

205
শেয়ার
ফাইল ছবি

দিন দিন হিংস্র এবং অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গারা।দিন যতই গড়াচ্ছে রোহিঙ্গাদের জীবনাচারে ততই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের চলাফেরায় দু’মাস আগেও যেমন নিরীহভাব ছিল, এখন আর তেমনটা নেই। বরং বসবাস করছে অনেকটা স্থায়ী বাসিন্দাদের মতো। পরিবর্তন এসেছে তাদের দৈহিক ভাষায়, চেষ্টা চালাচ্ছে এদেশেই স্থায়ী হওয়ার।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একে অপরের হামলায় এক রোহিঙ্গা খুন হয়।৭ অক্টোবর কুতুপালংয়ের একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার পার্শ্ববর্তী তেলপাড়া খাল থেকে এক অজ্ঞাত রোহিঙ্গার বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।শুধু তাই নয়, এর মধ্যে স্থানীয়দের সঙ্গে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে একাধিক। এদের রাখাইনে ফিরতে অনীহার পাশাপাশি ওপার থেকে প্রতিদিন রোহিঙ্গা আগমনের ঢলও অব্যাহত রয়েছে।রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে যারা বর্তমানে অবস্থান করছে, তারা বেশ ভাল আছে। তাই তারা তাদের স্বজন এবং প্রতিবেশীদেরও বলছে এদিকে আসতে,ফলে অনুপ্রবেশ বন্ধ হচ্ছে না। সব মিলিয়ে সমূহ বিপদের আশঙ্কার মধ্যে সেখানকার বাংলাদেশী নাগরিকরা।

উখিয়ায় বাঙালি আছে প্রায় ৩ লাখ। রোহিঙ্গা আছে প্রায় ৬ লাখ। তবে বাস্তবে আরও কিছু বেশি। বাঙালির তুলনায় রোহিঙ্গা বেড়ে যাওয়াকে বড় সমস্যা মনে করছেন স্থানীয়রা।আর টেকনাফ উপজেলায় ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে বাঙালি আছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৩৮৯ জন। জনসংখ্যার অনুপাত এমনই দাঁড়িয়েছে যে, কক্সবাজারের এ দুটি এলাকায় এখন রোহিঙ্গারাই শক্তিশালী অবস্থানে। জীবিকা না থাকায় তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।প্রথমে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে নিজেদের মধ্যে মারামারি করলেও এখন আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয় অধিবাসীরা।এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের দোকান বসাতে না দেওয়া, বনের গাছ কাটতে না দেওয়া, জমি দখল করে ঘর তৈরিতে বাধা দেওয়া এসব নিয়ে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।গত ২৫ দিনে পুলিশ ২৩টি ঘটনা রেকর্ড করেছে যার মধ্যে সর্বশেষ একজন পুলিশ কর্মকর্তা রোহিঙ্গাদের হাতে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।রোহিঙ্গারা এখন স্থানীয়দের ভূমিতে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় তৎপর। খুলছে ছোটখাটো ব্যবসা।

যার কারণে রোহিঙ্গা-বাঙালি দ্বন্দ্বে সংঘাতের আশঙ্কাও আছে প্রশাসনের মধ্যে। এর ফলে দুই মাসের মাথায় এসে এসব এলাকার বাঙালিদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে অসন্তোষের, ক্রমেই অতীষ্ঠ হয়ে উঠছে স্থানীয়রা। যা গণক্ষোভে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।মাত্র একমাস আগেও স্থানীয় বাসিন্দাদের যে আবেগ ছিলো রোহিঙ্গাদের নিয়ে তা আস্তে আস্তে থিতিয়ে আসছে।কমে আসছে সহানুভূতিও ।এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত পাঠানো অথবা নোয়াখালীর ভাসানচরে নিয়ে যাওয়াকেই সমাধান মনে করছেন কক্সবাজারের বাসিন্দারা।

এদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢলে নানামুখী সঙ্কটে পড়ছেন কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দারা।প্রশাসন বাঙালিদের মধ্যে হতাশা ও দ্বন্দ্ব তৈরির ক্ষেত্রে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে আছে, যানবাহনের ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং রোহিঙ্গাদের কম মজুরিতে বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়া।ইয়াবা, মানবপাচার, মারধরসহ নানা অপরাধে জড়ানোর হার ক্রমেই বাড়া।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী জানান, অসন্তোষ বাড়ছে। গণঅসন্তোষ একসময় গণক্ষোভে পরিণত হবে। এতে যে সংঘাত সৃষ্টি হবে, সেটা সামলানো দায় হয়ে পড়বে।

কক্সবাজারের মানুষের আকুতি, এই রোহিঙ্গারা তাদের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করেছে তা অন্য জেলার মানুষ বুঝতে পারছে না। সারাদেশের আবেগ এবং আদর যত্ন করে বাংলাদেশের প্রতি তাদের আগহ বাড়িয়ে দেয়া আমাদের ভবিষ্যতকে বিপদের মুখে ঢেলে দিচ্ছে। আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব এরা চলে যাক।

উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, দিন দিন তাদের সংখ্যা এবং হিংস্রতা যেভাবে বাড়ছে কক্সবাজার না যেনো আবার ফিলিস্তিন হয়ে যায়, কারণ কমিউনিটি পাওয়ার মানুষকে হিংস ও অপরাধী করে তোলে।এখানে আমরাই এখন সংখ্যালঘু হয়ে গিয়েছি। এসব বিষয়ে এখন ভাবার সময় এসেছে।

জাতিসংঘসহ প্রভাবশালী বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার চাপে মিয়ানমার সরকার শেষ পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হবে এমনই সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার রাজি হলেও রোহিঙ্গারা ফিরতে রাজি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফ এবং উখিয়ায় রোহিঙ্গারা তাদের নিজ ভূমে ফেরার ব্যাপারে বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিচ্ছে।

মন্তব্য করুন

comments