রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে অংশ নিচ্ছে সেনাবাহিনী

71
শেয়ার

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সেনাবাহিনী যোগ দিবে এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে গেছেন। সেখান থেকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী যেন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে অংশ নেয়।”

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য নানা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ত্রাণ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের আশা করেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের দ্বারা রোহিঙ্গাদের ত্রাণকাজে সুষ্ঠুতা আসবে এবং তাদের পুনর্বাসন করা সহজ হবে। দুর্দশাগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে তিনি আবারো সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পরে ত্রাণগুলো জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেন মন্ত্রী।

গত দুইদিন ধরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ করেন সেতুমন্ত্রী। মঙ্গলবার বিকালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার উনচিপ্রাং এলাকায় রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।আজ বিকালেও তার টেকনাফের শামলাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণের কথা রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের দুঃখ-কষ্টের বর্ণনা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আসুন নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াই। তারা কতদিন ধরে অর্ধাহার-অনাহারে রয়েছে। কতদিন ধরে ঘুমায়নি। সারা রাত বৃষ্টি হয়েছে, এতে তাদের কষ্ট আরও বেড়েছে। তারা যে কত অসহায়। আসুন যেভাবে পারি তাদের সাহায্য করি।’

শরণার্থী এসব রোহিঙ্গাদের একত্রিত করার লক্ষ্যে উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীতে দুই হাজার একর জায়গা নির্ধারণ করে সরকার। এ কারণে রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়া রোধ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ২৫টি চেকপোস্ট ও ১২টি পেট্রোল টিমসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছে। অতিরিক্ত পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, চার প্লাটুন বিজিবি, ৬০ জন অফিসারসহ ৩৬০ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও আনসার সদস্য, স্কাউট সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে সেখানে ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কাজ চলছে।

মন্তব্য করুন

comments