পাহাড়ে বসতি স্থাপন করছে রোহিঙ্গারা;পাঁচ হাজার একর জমির ব্যবস্থা করছে সরকার

38
শেয়ার

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য পাঁচ হাজার একর জমি বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে সরকার। জেলার কুতুপালং এলাকায় এ জায়গা বরাদ্দ দেয়া হতে পারে।

শুক্রবার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া রোহিঙ্গাদের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শনে কক্সবাজার যান। সেখানে বিকাল সাড়ে ৫ টায় ক্যাম্পে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের পাঠিয়েছেন রোহিঙ্গাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে। আন্তর্জাতিক ভাবে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করে এ সমস্যার সমাধান করা হবে। নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয় শিবির খোলার জন্য কুতুপালং এলাকায় ৫ হাজার একর জমি বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।মন্ত্রী এসময় মানচিত্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ করার সম্ভাব্য জায়গাটি দেখেন।তারা যাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না পড়ে সে ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে সরকার। এর জন্য তাদের অস্থায়ীভাবে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার চেষ্টা হচ্ছে।

এসময় মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম, দুর্যোগ ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, সাইমুম সরওয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে এখনো প্রতিদিন বানের পানির মতো দলে দলে আসছে রোহিঙ্গারা। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। আর নতুন আসা এসব রোহিঙ্গাদের ঠাঁইহীন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে নানা সমস্যা। এসব রোহিঙ্গারা উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, টেকনাফের লেদা ও শাপলাপুরে স্থান না পাওয়ায় নিয়ন্ত্রণহীন পরিবেশে উখিয়ার কুতুপালং থেকে শুরু করে থাইংখালী পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকার পাহাড়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

একই সঙ্গে এবার টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রং এর পশ্চিমের পাহাড়ে রইক্ষ্যং নামক এলাকায় গড়ে উঠেছে নতুন এক রোহিঙ্গা বসতি। সেখানে অনন্ত লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে অন্যান্য বস্তিতে কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও রইক্ষ্যং বস্তিটি পুরোটাই বিজিবির নিয়ন্ত্রণে।

ঝুঁকিপূর্ণ হলেও পাহাড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে বাঁশ এনে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি করছেন অস্থায়ী ঘর। বনবিভাগের যেসব জায়গায় স্থানীয়দের তেমন যাতায়াত নেই, সেসব জায়গাতেই তারা গড়ে তুলছেন এসব বসতি। উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বনবিভাগের সামাজিক বনায়নের আওতাধীন এলাকা ও পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের ঘর তৈরি করতে দেখা গেছে।

মন্তব্য করুন

comments