মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

32
শেয়ার

বাংলাদেশে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে দেশটির পর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাষ্ট্রদূত রিনা প্রিথিয়াসমিয়ারসি সোয়েমারনোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম পরে সাংবাদিকদের সামনে বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের অবস্থান একদম পরিষ্কার। কখনই প্রতিবেশী দেশের বিদ্রোহী বা জঙ্গি কার্যক্রম এদেশের মাটিতে পরিচালিত হতে দেওয়া হবে না।’
এ সময় ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মানবিক দিক বিবেচনায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের মে থেকে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন। গত কয়েক বছরে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা আলোচনায় তুলে ধরেন নতুন রাষ্ট্রদূত। আগামীতে বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই বিপুল সংখ্যক মানুষের বাড়তি দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের এই নাগরিকরা মাদক পাচার, জঙ্গি তৎপরতাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে তারা বিদেশেও পাড়ি জমাচ্ছে বলে তথ্য এসেছে বিভিন্ন সময়ে।

ইহসানুল করিম বলেন, “আমাদের নীতি যে অত্যন্ত স্পষ্ট, তা রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্য কোনো দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সৃষ্টিতে আমাদের ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।”

মানবিক কারণে মিয়ানমারের বিপুল সংখ্যক নাগরিককে কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে স্থান দেওয়ার প্রশংসা করে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ সঠিক কাজই করেছে।

এদিকে, গত ২৪ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনাক্যাম্পে হামলার পর সীমান্তে নতুন করে এই রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের হিসাবে, গত ১২ দিনে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ৯০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

মন্তব্য করুন

comments