একটি গুলি পড়লে পাল্টা জবাব: মিয়ানমারকে বিজিবির হুঁশিয়ারি

102
শেয়ার

সীমান্তের জিরো লাইন ক্রস করে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে কোনো গুলি আসলে পাল্টা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মহাপরিচালক আবুল হোসেন।মিয়ানমার বাহিনী এবং সশস্ত্র রোহিঙ্গাদের প্রতি ইঙ্গিত করে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর বাংলাদেশে আসতে সীমান্তে জড়ো হওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর সে দেশের সীমান্তক্ষী বাহিনীটির গুলি চালানোর পর এমন হুঁশিয়ারি দিলেন বাহিনীটির মহাপরিচালক আবুল হোসেন।

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেন, আমরা বীরের জাতি, স্বাধীন দেশের ভূখণ্ডে একটি গুলি পড়লে পাল্টা জবাব দেয়া হবে। আমরা পরিপূর্ণভাবে যেকোন সমস্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছি। কক্সবাজার-বান্দরবান সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত ১৫ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার বিকেল ৪টায় সীমান্ত এলাকা ঘুমধুম বিজিবি ক্যাম্প পরিদর্শন করে বিজিবি সদস্যদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

গত শনিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরের দিকে তুমব্রুর ২টি পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। সেসময় সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের মধ্যে এক ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে বিজিপি দুঃখপ্রকাশ করে।

রবিবার সকালে সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমারের ঢেকিবনিয়া ও তুমব্রু গ্রামে প্রচন্ড গুলিবর্ষণ হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার নজরদারি রাখতে দেখা গেছে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দাবি, রাখাইন রাজ্যে বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) এক রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ২০টি পোস্টে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রোহিঙ্গাদের একটি জঙ্গি সংগঠন এ হামলার দায়ও স্বীকার করে। মিয়ানমার সরকারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযানে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য এবং ৭৭ রোহিঙ্গা জঙ্গি নিহত হয়েছে।এ ঘটনার একদিন আগেই কফি আনান কমিশন তাদের প্রতিবেদন দেয়। তাতে রাখাইন রাজ্যের সমস্যা সমাধানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দান ও স্বাধীন চলাচলের অনুমতির সুপারিশ করা হয়।

নতুন এ সহিংসতার পরই ফের বাংলাদেশের দিকে ঢল নামে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের। সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও কক্সবাজারের সীমান্ত দিয়ে দলে দলে অনুপ্রবেশ করছে তারা। তাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ঢুকেছেন। শনিবারই চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ এক রোহিঙ্গা মারা যান।

গত অক্টোবরেও সন্ত্রাসী হামলার জবাবে রাখাইনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই সময় প্রাণ বাঁচাতে অন্তত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন। তারা এখনও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে।

মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী এসব রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার কৌশল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ। তিনি বলেন, সীমান্তের তুমব্রু, ঘুমধুম ও পালংখালী নাফনদীর তীরবর্তী অঞ্চলের গ্রামবাসীরা বসবাস করছে। বিশেষ করে আতঙ্কে রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত জনপদের মানুষও।

বিজিবি কর্মকর্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের ভূখন্ডে কোনো মর্টার শেল পড়েছে কি না, খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে সীমান্ত পরিদর্শনে যাওয়া ম্যাজিস্ট্রেট মফিদুল আলম বলেন, মিয়ানমার পুলিশ বিজিপির ছোড়া তিনটি গুলি তুমব্রু বাজারে এসে পড়েছে। তবে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।

এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন্টকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার (২৬ আগস্ট) বিকালে তাকে তলব করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মাহবুবুজ্জামান। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের প্রেক্ষাপটে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে গত বৃহস্পতিবার রাখাইনে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, রোহিঙ্গারা যেন দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ না করে সে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে অং মিন্টের কাছে একটি অনানুষ্ঠানিকপত্র হস্তান্তর করেছে ঢাকা।

 

মন্তব্য করুন

comments