X

সাত খুন মামলার পিপির মেয়ের মুখে বিষ ঢেলে হত্যাচেষ্টা

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়ে মাইশা ওয়াজেদ পাঁপড়িকে (১৬) জোরপূর্বক মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।পাঁপড়ি নারায়ণগঞ্জের একটি ইংরেজি মিডিয়ামের স্কুলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্রী।

ঢামেক হাসপাতালে পিপি ওয়াজেদ আলী খান অভিযোগ করে বলেন, ‘যারা সাত খুন মামলার রায়ে খুশি হননি তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা আমার মেয়েকে অপহরণ করতে চেয়েছিল।’

পাঁপড়ি্র বাবা ওয়াজেদ আলী জানান, “নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের পাশে উকিলপাড়া এলাকার হাজী মঞ্জিলের চতুর্থ তলায় তৌহিদ টিউটোরিয়াল কোচিং সেন্টার থেকে কোচিং শেষে পাঁপড়ি বের হন। তখন সেখানে তার বাবার বয়সী তিন জন লোক আসেন। তারা সাত খুন মামলার কথা উল্লেখ করে বলেন তোমার বাবা ভালো কাজ করেছেন। তোমাকে তো মিষ্টি খাওয়ানো দরকার। এ কথা বলে তারা পাঁপড়ির মুখে একটি মিষ্টি জোর করে ঢুকিয়ে দিয়ে পানি ঢেলে দেয়।। পরে পাঁপড়ি দৌড়ে কোচিং সেন্টারে ঢ়ুকে পড়ে। তার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। সে বলে তারা গলা জ্বলতেছে।এ সময় পাঁপড়ির বমি শুরু হলে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন অচেতন অবস্থায় তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তাররা তার মুখে বিষ ঢুকানো হয়েছে বলে জানান।”

ঘটনার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক, সদর মডেল থানার ওসি শাহীন শাহ পারভেজ, ডিবির ওসি মাহাবুবুর রহমানসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পারিবারিক সূত্রে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নুর হোসেনের সহকর্মীরা মামলার রায়ে ক্ষুব্দ হয়ে তার মেয়ের উপর এরকম আমানবিক ঘটনা ঘটাতে পারে।

জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে শেষে সাংবাদিকদের জানান, পরিবারের স্বজনদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে চেষ্টা করছি। বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (চাকরিচ্যুত) এম মাসুদ রানাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে মঙ্গলবার রায় দেন হাইকোর্ট।

গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ দুই মামলায় ৩৫ জন আসামির মধ্যে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেন। অন্য নয় জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পাঁপড়ির বাবা অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগেরও নেতা। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুন মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে তিনি পরিচালনা করেন।

মন্তব্য করুন

comments