নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট

36
শেয়ার

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রায়ে কাউন্সিলর নুর হোসেন এবং সাবেক র‍্যাব অধিনায়ক তারেক সাঈদসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।মঙ্গলবার বিকালে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিং ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।এছাড়া ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবাজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।নিম্ন আদালতে কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে হাইকোর্ট সেই রায় পর্যালোচনা করেন।

২০১৪ সালের এপ্রিলের ওই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের একজন কাউন্সিলর এবং একজন আইনজীবীসহ সাতজনকে হত্যা করা হয়।মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ছিল র‍্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের ২৫ জন সদস্য এবং একজন সাবেক কাউন্সিলর।

বিকেল সাড়ে চারটায় বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এতে র‍্যাবের এর সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও মাসুদ রানা এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নূর হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।

এর আগে, মামলার শুনানি শেষে গত ২৬ জুলাই রায় ঘোষণার জন্য গত ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছিল আদালত। পরে ওইদিন আদালত রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে ২২ আগস্ট আসামিদের নিয়মিত ও জেল আপিল এবং ডেথ রেফারেন্সের ওপর রায়ের দিন ধার্য করেন।

মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর রায়ে হাইকোর্ট ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন এবং বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজাও বহাল রেখেছেন।

গত ২২ মে এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টের শুনানি শুরু হয়। প্রথমে বেশ কয়েকদিন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের আদালত সাত খুন মামলায় ৩৫ জনকে দণ্ডিত করে রায় ঘোষণা করেন।তখন এ মামলার রায় দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে স্থানীয় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনসহ র‍্যাব থেকে বরখাস্তকৃত ২৫ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে নূর হোসেন ও র‍্যাবের ১৬ জনসহ মোট ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিলো। র‍্যাবের আরও নয়জন সাবেক কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।গত মামলার প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র্যাবের বরখাস্তকৃত তিন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নাসিক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ। পরদিন মেলে আরেকজনের লাশ। নিহত অন্যরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো: ইব্রাহীম।

ঘটনার একদিন পর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা (পরে বহিষ্কৃত) নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।

মন্তব্য করুন

comments