বিভীষিকাময় ‘২১ আগস্ট’ আজ

25
শেয়ার

আজ বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট।ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার ১৩তম বার্ষিকী আজ। ১৩ বছর আগে ২০০৪ সালের এই দিন বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ২৪ জন। আহত হন আরও শতাধিক।

২০০৪ সালের এইদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা এবং তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের প্রতিবাদে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশের আয়োজন করেছিল আওয়ামী লীগ। বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খোলা ট্রাকের ওপর স্থাপিত উন্মুক্ত মঞ্চে বক্তৃতা করছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

দিনটি ছিল শনিবার।সময় তখন বিকেল ৫টা ২২ মিনিট।বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সন্ত্রাস ও বোমা হামলার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছিল। সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল হওয়ার কথা ছিলো তাই মঞ্চ নির্মাণ না করে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাককে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সমাবেশে অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যের পর শেখ হাসিনা বক্তব্য দিতে শুরু করেন।বক্তব্য শেষ করে শেখ হাসিনা যখন সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন, ঠিক সেই মুহূর্তে গ্রেনেড বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকা।কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিস্ফোরিত হয় পর পর ১৩টি গ্রেনেড।চারদিক থেকে গ্রেনেড এসে পড়তে থাকে সভাস্থলে। সমাবেশের মঞ্চকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় গ্রেনেডগুলো।মুহূর্তের মধ্যে শান্তি সমাবেশ রক্তস্রোতে ভেসে যায়। সমাবেশস্থল পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। শত শত মানুষের চিৎকার, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকা ছিন্নভিন্ন দেহ, রক্ত আর বারুদের পোড়া গন্ধে বীভৎস এক নারকীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সে দিনের হামলার প্রধান টার্গেট ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাগ্যক্রমে শেখ হাসিনা সেই গ্রেনেড হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ।ঘাতকের গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড হামলা থেকে তিনি বেঁচে গেলেও বাঁচতে পারেনি আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪টি তাজা প্রাণ।

দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রিয় নেতাকে বাঁচাতে মরিয়া নেতাকর্মীরা দ্রুত তাকে গাড়িতে তুলে দেন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তার পিছু ছাড়েনি। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে বের হওয়ার পথে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িতেও ঘাতকরা অবিরাম গুলিবর্ষণ করে।

২১ আগস্টের সেই রক্তাক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। আর এ হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ও দলের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আইভি রহমান ৫৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ২৪ আগস্ট মারা যান। আহত হওয়ার পর প্রায় দেড় বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হেরে যান আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা ও প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। আরো নিহত হয় মোসতাক আহম্মদ সেন্টু, শেখ হাসিনার দেহরক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), হাসিনা মমতাজ রীনা, রিজিয়া বেগম, রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, লিটন মুন্সী, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসির উদ্দিন সর্দার, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম।

আহত হয়েছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি (তৎকালীন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য) জিল্লুর রহমান, প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক, আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, কাজী জাফর উল্লাহ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, সাঈদ খোকন, মাহবুবা আখতার, অ্যাডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দীপ্তি, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনি, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম, রুমা ইসলাম, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেইন, মামুন মলি্লকসহ ৫ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী।

প্রতিবছরের মত এবারও দিনটি উপলক্ষে কর্মসূচী পালন করবে আওয়ামী লীগ। এ উপলক্ষে সোমবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কর্মসূচীতে অংশ নিতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments