চারিদিকে শুধু পানি, তারপরেও পানির জন্য হাহাকার

39
শেয়ার
ছবিঃ সংগৃহিত

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদ–নদীগুলোর পানি উপচে ঢুকে পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। এ কারণে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। পানিবন্দী অধিকাংশ মানুষ ভুগছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে।

যমুনেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ১৪২ সেন্টিমিটারে ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চিড়া ও গুড় বিতরণ করা হয়েছে।

এ সমস্থ এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট,তলিয়ে গেছে টিউবওয়েল।সেই সাথে ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ।

চারিদিকে শুধু পানি আর পানি থাকলেও বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চারিদিকে।বিশুদ্ধ পানির অভাবে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

সরজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়,ছোনগাছা ইউনিয়নের, পাচঁটাকুরী, সিমলা, ইটালী বালিগুঘড়ী, পারপাচিল, ভাটপিয়ারী গ্রামের প্রায় বেশীর ভাগ অংশ বানের পানিতে তলিয়ে গেছে।
পানি বন্ধী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কয়েক হাজার মানুষ। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে গবাদীপশু নিয়ে আশাপাশের উচু জায়গায় আশ্রয় নিলেও বন্যার পানি অব্যাহত বৃদ্ধির ফলে সে জায়গাটুকুও তলিয়ে গেছে।

বন্যার পানি হানা দেওয়ায় বাড়ি-ঘরের বেশিরভাগ মালামাল সরাতে পারেননি বানভাসি মানুষ। শেষ সহায়-সম্বল যেটুকুই বাচাঁতে পেরেছেন তা নিয়েই খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।

বুধবার (১৬ আগস্ট) দিনাজপুর শহরতলী বাঙ্গীবেচা ঘাট ব্রিজের উপর খোলা আকাশের নিচে কয়েক হাজার বন্যাদুর্গত মানুষদের আশ্রয় নিতে দেখা যায়।

শনিবার (১২ আগস্ট) থেকে বুধবার (১৬ আগস্ট) পাঁচ দিন ধরে বাস্তুহারা হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিনরাত কাটছে শিশু-বৃদ্ধ-নারী-পুরুষ সবার।

অসহায় এসব মানুষেরা বিশুদ্ধ খাবার পানি পাচ্ছেন না। বাড়িঘরের টিউবওয়েলসহ পানি সরবরাহের সব বন্দোবস্ত বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই বাঙ্গীবেচা এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষদের বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে হাহাকার উঠেছে। খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষ পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত পরিমাণের খাবার।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে মোট ২২ জেলা এখন বন্যার কবলিত রয়েছে। আর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ লাখ ২৭ হাজার মানুষ।

পুরো উত্তরবঙ্গ জুড়ে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট তীব্র। ত্রাণ পর্যাপ্ত নয়। জলাবদ্ধতায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তৃণভূমি তলিয়ে থাকায় গৃহপালিত পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বন্যার্তরা।

এদিকে বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করতে আগামী রোববার দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এহসানুল করিম।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবারের বন্যায় এখন পর্যন্ত ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ৯২ জনের।

বন্যায় ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ২১৭ হেক্টর। এছাড়া প্রায় ৭ লাখ ৫২ হাজার পরিবার আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১ হাজার ৫৯৯টি। এসব কেন্দ্রে ৪ লাখ ১১ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments