২২ জেলায় বন্যায় ৩৩ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত; এ পর্যন্ত নিহত ১০৭

27
শেয়ার

দেশের ২১ জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ লাখ ২৭ হাজার মানুষ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই পর্যন্ত ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এবছর দ্বিতীয় দফা বন্যা উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল ছাড়িয়ে এখন মধ্যাঞ্চলে বিস্তৃত হচ্ছে। দেশের ৯৬ উপজেলার ৬২৩ ইউনিয়নের সাত লাখ ৫২ হাজার ৩৪৯টি পরিবার আক্রান্ত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, দিনাজপুর, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজবাড়ী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর ও রাঙামাটি জেলার ১২২টি উপজেলা ও ৩৮টি পৌরসভা এখন বন্যায় প্লাবিত।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৫২ হাজার পরিবার আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মারা গেছে ৩৭ জন। এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে ১ হাজার ৫৯৯টি। এগুলোতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজার।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যাজনিত কারণে গত জুলাই মাস থেকে এ পর্যন্ত ১০৭ জনের মৃত্যুর খবর বুধবার জানানো হয় মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দিনাজপুর জেলায়। এ জেলার ১৩টি উপজেলার সবগুলোয় বন্যাকবলিত। বন্যাদুর্গত জেলাগুলোর মধ্যে জামালপুরে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ জেলায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া সিরাজগঞ্জে ২৩ জন, কুড়িগ্রামে ১৯ জন, গাইবান্ধায় ১১ জন, দিনাজপুরে ৭ জন, লালমনিরহাটে ৬ জন, নীলফামারীতে ৫ জন ও কক্সবাজারে ৩ জন মারা গেছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব গোলাম মোস্তফা জানান, বন্যা প্রলম্বিত হলেও সরকারের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে। যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণ রয়েছে এবং তা সরবরাহ করা হবে। শুকনা খাবার বিতরণ অব্যাহত আছে।

ইতিমধ্যে ৯ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৫৫ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ। আর ১৬ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments