X

আজ জাতীয় শোক দিবস

১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস

আজ জাতীয় শোক দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে শোকাবহ দিন। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এইদিনে খুব ভোরে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে।

ইতিহাসের নৃশংস ও বেদনাদায়ক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের এই দিনে আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুটা সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ ছাড়া ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

পরে ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে যান বনানী কবরস্থানে। বঙ্গবন্ধু ছাড়া ১৫ অগাস্ট নিহত তার পরিবারের সদস্য ও অন্য সব স্বজনদের কবর রয়েছে সেখানে। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে সেখানে পরিবার ও স্বজনদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এসময় তাদের সঙ্গে ছিলেন।

শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রতিটি কবরে গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে দেন। তার আগে মোনাজাতে অংশ নেন তারা। ঢাকার কর্মসূচি শেষে সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন শেখ হাসিনা। সেখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

দুপুরে বঙ্গভবনের আয়োজিত দোয়া মাহফিলে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থাকবেন। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার উপস্থিতিতে সকালে সুপ্রিম কোর্টে হবে আলোচনা সভা।

সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে দিবসটির বিভিন্ন কর্মসূচি। আজ সরকারি ছুটি। সরকারি কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবনসহ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং আলোচনা সভার আয়োজন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্ত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন।

বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব কর্নেল জামিলও খুন হন তার ‘সহকর্মী’ সেনা সদস্যদের হাতে। ঘাতকদের কামানের গোলার আঘাতে মোহাম্মদপুরে একটি পরিবারের বেশ কয়েকজন হতাহত হন।

তবে সেই সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশের বিকাশকে রুদ্ধ করে দেওয়াই ছিল ওই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড জাতির অস্তিত্ব ও মননে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। তবে সে ক্ষতের কিছুটা উপশম হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে খুনিদের বিচারের মাধমে। অনেক বাধা-বিপত্তির পর বিলম্বে হলেও ইতিহাসের জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। এই বিচার এবং বিচারের রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে জাতি তার কলঙ্কের দায় লাঘব করতে সমর্থ হয়েছে।

এদিকে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন। আজ মঙ্গলবার এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনাসভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নগর ভবনসহ সব স্থাপনায় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও চসিকের পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন। চসিকের ফোরকানিয়া মাদরাসাগুলোতে মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দারুল ফজল মার্কেটের দলীয় কার্যালয়ে সকালে কালো পতাকা উত্তোলন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো ব্যাজ ধারণ, জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বাদ জোহর মুসলিম হলে খতমে কোরআন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন

comments