X

শিয়াদের অনুকরণে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শোকের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল

ছবিঃ সংগৃহিত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের দেশে এনে রায় কার্যকরের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে নিজের শরীরে আঘাত করতে করতে মাতম করে আলোচনায় এসেছেন চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মোহাম্মদ ইকবাল। তার ওই মাতমের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে এখন ভাইরাল।

গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রাক্কালে ব্যাতিক্রমধর্মী শোক মিছিলে কথিত ‘রক্ত ঝরানোর’ এই মাতম করেন তিনি। এসময় জিঞ্জির চাকু দিয়ে শরীরে আঘাত করছিলেন তিনি। এ সময় আরো দু’জন অনুসারী শার্ট খুলে একই কাণ্ড ঘটান। ‘হায় মুজিব, হায় মুজিব’ বলে উন্মাদনা সৃষ্টি করেন তারা। কয়েক মিনিট ধরে তাদের এই মাতম চলে।

মানববন্ধনে নিজের শরীরে আঘাত করা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা ছিলো প্রতীকী, তালা লাগানোর পাতলা শিকল দিয়ে নিজকে আঘাত করেছি। শরীরে তেমন আঘাত লাগেনি বা আহত হইনি।’

তারা বঙ্গবন্ধুর বাকি খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি জানান। খুনিদের আত্মীয়-স্বজনদের সরকারি চাকরি না দেওয়ারও দাবি করেন।

আয়োজন পরবর্তি সময়ে হাজী ইকবাল জানান, বিদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু খুনীদের ফিরিয়ে আনার দাবীতে এই আয়োজন। তিনি আরও বলেন, যদি মক্কা মদিনা যেতে পারি তাহলে ১৫ আগষ্ট সকাল থেকে দোয়া করবো আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসীব করেন।

পুরো কর্মসূচি নিয়ে নগরীর ৩৮নং ওয়ার্ডের সল্টগোলা ক্রসিংয়ের বাসিন্দা হাজী ইকবাল বলেন, ‘বাল্যকাল থেকে আমি বঙ্গবন্ধুর ভক্ত, বঙ্গবন্ধুর মজনু ও বঙ্গবন্ধুর আশেক। আগস্ট মাস আসলে আমি নিজকে ধরে রাখতে পারি না, প্রতি বছরই কর্মসূচি পালন করি।’

হাজী ইকবাল ৩৮ নম্বর দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য দাবি করলেও নগর আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেছেন, ইকবাল এক সময় বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার কারণে ৮-১০ বছর আগে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইকবাল আলী চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানাধীন ৩৮ সল্টগোলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রায় ১৯ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। ২০০২ সালে তিনি দেশে চলে আসেন। স্থানীয় রাজনীতিতে নগর আওয়ামী লীগের কোনো ইউনিট কমিটিতে তাঁর নাম নেই। তবে সৌদি আরবের মক্কা ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে তিনি দাবি করেছেন।

ভিডিওঃ কালের কন্ঠ

আজকে সারাদিন ভিডিওটি ভাইরাল ছিল ফেসবুক আর ইউটিউবে। হাজী ইকবালের এমন ‘শোক প্রকাশের ব্যতিক্রমি প্রকাশভঙ্গীকে ‘উদ্ভট’ দাবী করে কঠোর সমালোচনায় সরগরম হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক। আর সমালোচনাকারীদের বেশিরভাগই আওয়ামী পন্থী অনলাইন একটিভিস্ট।

শরিফুল ইসলাম নামের একজন এক্টিভিস্ট লিখেছেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এর চেয়ে অপমানজনক ট্রল আর হতে পারে না। তারা সিম্পলি শেখ মুজিব নামটাকেই পাবলিকের কাছে ঘৃন্য আর লজ্জার একটা নামে পরিনত করছে।

আলী আজম তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘মুজিব কোট পরা এরা কারা? ১৯৭৫ সালের পরে এরা কোথায় ছিল?’

তাজমুল আকতার লিখেছেন, হায় মজিব, হায় মজিব করা ওই চাটার দল ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর কি করেছিল? তার বয়স তো অনেক, সে যদিই সত্যিই বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে তাহলে তো সেইসময় তার শক্তি দিয়ে ওই হত্যাকারীদের বিপক্ষে লড়ার কথা ছিল।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও সম্পর্কে শুনেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মন্তব্য করার রুচি আসছে না। আমি ক্ষুব্ধ।’

মন্তব্য করুন

comments