X

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ; দ্বিতীয় ভৈরব ও তিতাস রেল সেতু উদ্বোধন সেপ্টেম্বরে

ছবিঃ সংগৃহিত

আগামী মাসের প্রথমার্ধেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ৯৫৯ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ভৈরব ও তিতাস দ্বিতীয় রেল সেতু দুটির।

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ যোগাযোগ উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। সেতুর প্রকল্প পরিচালক ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবদুল হাই বলেন, সেতু দুটির নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসেই এগুলো উদ্বোধন হবে।

রেল খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরবর্তীতে ঢাকা-চট্টগ্রামে পুরোদমে ডাবল লাইন চালু হলে যাত্রাপথে সময় বাঁচবে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে ৫-৬ ঘণ্টা। নবনির্মিত ডাবল লাইনে ১০০-১২০ কিমি. বেগে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছতে সুবর্ণ এক্সপ্রেসসহ আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর যেখানে গড়ে ৬ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সেখানে ৪ থেকে ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় লাগবে।

রেল মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল আলম জানিয়েছেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে টঙ্গী থেকে ভৈরববাজার স্টেশন পর্যন্ত ডাবল রেললাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এই ডাবল লাইন চালুর ফলে এই অংশে এখন প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনসহ ৮৪টি ট্রেন চলাচল করছে।

ছবিঃ সংগৃহিত

রেলওয়ে অ্যাপ্রোচসহ সেতু দুটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৯৫৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৩৩ কোটি টাকার অর্থায়ন হচ্ছে সরকারি তহবিল থেকে। বাকি ৮২৬ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে ভারতীয় ঋণ সহায়তা (এলওসি) থেকে। ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর একনেকের সভায় সেতু দুটি নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

এরমধ্যে ১২টি পিলার ও ৯টি স্প্যান বিশিষ্ট ৯৮৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ মিটার প্রস্থের ভৈরব সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ২০১৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের কাজ শুরশু করে। একইভাবে ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে তিতাস সেতু। ২০১৪ সালের ২৭ জানুয়ারি এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ৯৮৪ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতু ও ২১৮ মিটার দীর্ঘ তিতাস রেলসেতু চালু হলে ভৈরব ও আখাউড়া স্টেশনে ক্রসিং ছাড়াই ট্রেন চলাচল করতে পারবে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সময় এবং ট্রেনের সংখ্যাও বাড়বে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের আমলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক কাজ শেষ হয়েছে, বেশকিছু কাজ শেষ হওয়ার পথে। ঢাকা-চট্টগ্রামের ৩৪৬ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৭১ কিলোমিটার ছাড়া বাকি অংশ ডাবল লাইনের কাজ শেষ হয়েছে। বেশকিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নও শেষ হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডাবল লাইন নির্মাণের পাশাপাশি একইসঙ্গে বিদ্যমান রেললাইনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর করা হচ্ছে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৫০৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ যাতে দেড় বছর কমিয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে যাতে শেষ করা যায় এজন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। প্রকল্পটির কাজ করছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (চীন), ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও তমা কনস্ট্রাকশন।

মন্তব্য করুন

comments