হাতটি ঠিক রেখেই মুক্তামনির প্রথম অপারেশন শেষ

49
শেয়ার
ছবিঃ সংগৃহিত

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনির মুক্তামনির হাতের অপারেশন শেষ হয়েছে। অপারেশনের পর সে ভালো আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে এখন আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

মুক্তামণির ডান হাতের রক্তনালীর টিউমারের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ড. সামন্ত লাল।

শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে মুক্তামনিকে অস্ত্রোপচার কক্ষে ঢোকানো হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে তার ডান হাতের আক্রান্ত অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা তার অপারেশন করেন।

অস্ত্রোপচার পর মুক্তামনির জ্ঞান ফিরেছে এবং সে চিকিৎসকদের কথায় সাড়া দিচ্ছে। সোয়া ১১টার দিকে অস্ত্রোপচার শেষ হয় তার। সামন্ত লাল সাংবাদিকদের জানান, এরপর পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচ-ছয়টি অস্ত্রোপচার করতে হবে।

গত ১২ জুলাই ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয় মুক্তামনিকে। এতোদিন মুক্তামনির রোগটিকে বিরল রোগ বলা হলেও গত শনিবার তার বায়োপসি করার পর জানা গেছে মুক্তামনির রক্তনালীতে টিউমার হয়েছে যেটাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে হেমানজিওমা বলা হয়ে থাকে। মূলত রক্তনালীতে টিউমার হওয়ার কারণে হাত ফুলে যায় মুক্তামনির।

অপারেশনের আগে অবশ্য তার চিকিৎসা নিয়ে বাবা-মার সঙ্গে কথা বলেন চিকিৎসকরা। হাত কাটার আশঙ্কার কথা জানান। উত্তরে মুক্তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন ও মা আসমা খাতুন বলেন, আপনারা মুক্তার জীবন রক্ষায় যা যা প্রয়োজন করুন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আবুল কালাম বলেন, “স্কিন গ্রাফটিংসহ আরও পাঁচ-ছয়টি অপারেশন লাগতে পারে। প্রতি সপ্তাহে অথবা ১০ দিন অন্তর এই অপারেশনগুলো হবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেনের ১২ বছরের মেয়ে মুক্তামনির ডান হাতে দেড় বছর বয়সে একটি ছোট গোটা দেখা দেয়। পরে তা বাড়তে থাকে।

বছর চারেক আগে এমন পর্যায় যায় যে তার স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। আক্রান্ত হাতটি তার দেহের চেয়ে ভারি হয়ে উঠেছে, যন্ত্রণায় সব সময় অস্থির থাকে সে।

মুক্তামনির খবর গণমাধ্যমে আসার পর তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় সরকার, তাকে আনা হয় ঢাকায়।

মুক্তামনির অপারেশনে ২০ সদস্যের বেশি চিকিৎসকদের একটি দল অংশ নেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

মন্তব্য করুন

comments