১৫ দিনে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৩ গুন; ঈদের আগে কমার সম্ভাবনা কম

62
শেয়ার
ফাইল ছবি

পেঁয়াজের দামে ঝাঁজ বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। গত এক-দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের সবচেয়ে বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।

পেঁয়াজের দামে দীর্ঘদিন স্থিতিশীলতা থাকলেও গত ১৫ দিনে ধরে বেড়েছে অত্যাবশ্যকীয় এ পণ্যটির দাম। গত সপ্তাহে ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে সেটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে ভারতীয় পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার (১১ আগস্ট) ভালোমানের ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা কেজিতে। আর খুচরা বাজারে এসব পেঁয়াজ ৬০-৭০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রামের বৃহত্তম কাঁচাবাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে পেঁয়াজ। কিছুদিন আগের জলাবদ্ধতায় খাতুনগঞ্জের মজুদ কাঁচাপণ্যের ক্ষতি হয়েছে। সেটার কারণে দাম বাড়ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

এদিকে, কোরবানি ঈদের আর বেশিদিন নেই। ঈদের আগে যে কয়েকদিন আছে এর মধ্যে পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি করলেও এসব পেঁয়াজ বাংলাদেশে এসে পৌঁছাতে ঈদের পর হয়ে যাবে। ফলে ঈদের আগে দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন না এসব ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রামে এখন পেঁয়াজের তেমন মজুত নেই, কারো গোডাউনে তেমন পণ্যও নেই। মূলত: পচনশীল পণ্য হওয়াতে নিয়মিত ভারত থেকে পেঁয়াজ এনে আড়তদাররা বিক্রি করেন। জানা যায়, আগে যেখানে বেনাপোল ও সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় একশ ট্রাক পেঁয়াজ আসতো, এখন ৩০/৪০ ট্রাকের বেশি আসেনা, ভারতে বন্যা হওয়ার কারণে সেখানেও পেঁয়াজের মূল্য বেড়ে গেছে।

তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংগঠনের নেতারা বলছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কোনো ধরনের বাহার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীরা নিজের খেয়াল-খুশী মতো দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের পকেট কাটছেন। দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে এখন থেকেই বাজার তদারক করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।

কুরবানিকে সামনে রেখে মিথ্যা ও বানোয়াট অজুহাত দেখিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা যতই দাবি করুন না কেন, যে পেঁয়াজের সরবরাহ কম, কিন্তু প্রকৃত চিত্র ঠিক উল্টো। গত মঙ্গলবার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজ মজুত পর্যাপ্তই রয়েছে। বাজারে বর্তমানে যে পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে, তা ভারত থেকে ২ অথবা ৩ মাস আগে আমদানি করা।

চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের সমালোচনা করে এ ধরনের কারসাজি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খাতুনগঞ্জের কিছু দোকানে জোয়ারের পানি উঠলে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ-রসুনের কয়েকটি বস্তা টেনে পানিতে ফেলে দেন। এরপর তারা বলেন, পুরো খাতুনগঞ্জ ডুবে গেছে। এসব দেখিয়ে পরে পণ্যের দাম বাড়ান তারা। পাশাপাশি ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ না করার জন্যও তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে থাকেন।

এদিকে চাকতাই-খাতুনগঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, পেয়াজের পাশাপাশি রসুন আদাসহ অন্য মসলা সামগ্রীর দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের পাইকারী মূল্য ৭০ টাকা থেকে বেড়ে এক’শ টাকায় পৌছেছে। ৬৫ টাকার আদা বুধবার পাইকারী বাজারে বিক্রি হয়েছে ৯৬ টাকায়।

মন্তব্য করুন

comments