চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে একনেকের বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদন

122
শেয়ার
আগ্রাবাদ এক্সেস রোড
আগ্রাবাদ এক্সেস রোড

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় খাল খনন ও সম্প্রসারণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। এতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ বুধবার (৯ই আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটির অনুমোদন করেন।

সভায় ৯ হাজার ৭৬১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের মোট ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৮ হাজার ২৬৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৭০৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাওয়া যাবে ৭৯০ কোটি টাকা।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্প সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পটি সমন্বিত ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ)।তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী।

প্রকল্পে বলা হয়েছে,মোট ৫৭টি খাল দিয়ে প্রায় ৮০ লাখ মানুষের চট্টগ্রাম শহরের পানি ও বর্জ্য নিস্কাশন হয় কিন্তু অবৈধ দখল,ভরাট আর বর্জ্যে বোঝাই এসব খাল বৃষ্টি হলেই আর পানি সরাতে পারে না। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীর এই জলাবদ্ধতা এবং নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় শহরে ভেতর ও বাইরের ৩৬টি খাল খনন করা হবে। একইসঙ্গে এসব খালের চার লাখ ২০ হাজার ঘন মিটার কাদা অপসারন করা হবে। ১০ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার সাইড ড্রেন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এক লাখ ৭৬ হাজার মিটার রেটেইনিং ওয়াল করা হবে।৮৬ কিমি রাস্তা নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে। ৪৮টি পিসি ব্রীজ ও ৬টি কালভার্ট তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে প্রকল্পে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জুলাই, ২০১৭ থেকে জুন, ২০২০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

মন্তব্য করুন

comments