X

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দেশের একমাত্র ‘সিক্স লেন ফ্লাইওভার’ চালু হচ্ছে আগামী বছর

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর সঙ্গে যোগাযোগের মাঝামাঝি এলাকা ফেনীর মহিপালে দেশের প্রথম ও একমাত্র ‘সিক্স লেন ফ্লাইওভার’ এর নির্মাণকাজ।

২০১৫ সালে শুরু হওয়া ১৫৭ কোটি ৯৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ফ্লাইওভারের কাজ ইতিমধ্যে ৭৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।

মহিপালের প্রবেশপথ চাঁড়িপুর রাস্তার মাথা থেকে মহাসড়কের ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে এই ফ্লাইওভার।

নির্মাণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফেনীর মহিপালে দেশের প্রথম ও একমাত্র সিক্স লেন ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে অথবা ২০১৮ সালের শুরুর দিকে এটির কাজ শেষ হতে পারে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেড।

প্রকল্প সূত্র জানায়, ৬৫০ জন শ্রমিক দিন রাত এখানে কাজ করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন ফেনী প্রকল্প কার্যালয়ের এসডাব্লিউও কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জানান, ‘২০১৮ সালের জুন মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে’।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ এই কাজ শেষ হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রামমুখী ফ্লাইওভারের মূল কাঠামোর দৈর্ঘ্য ৩৭০ মিটার। এছাড়াও আঞ্চলিক মহাসড়কের গাড়ি পারাপারের জন্য ১৪৫ মিটারের দু’টি র‌্যাম্পের কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যে মূল কাঠামোর ২০টি পিলারের সবগুলো নির্মিত হয়েছে।

এজন্য মহাসড়কের চাঁড়িপুর রাস্তার মাথা সংলগ্ন স্থানে সেনাবাহিনীর নিজস্ব ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তেমুহানী জননী রাইস মিল ও ইউনিয়ন পরিষদের পাশে দুটি স্থানে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে ও প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রী সেখান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।

১৩২টি গার্ডারের মধ্যে ১৮টি বসানো হয়েছে। আরো ২৬টি গার্ডার তৈরি রয়েছে। গার্ডার স্থাপনে ১০০ টন ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ও ৩৫ টন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি হাইড্রোলিক ক্রেন কাজ করছে। পিয়ার ক্যাপ ১০টির মধ্যে ছয়টি শেষ হয়েছে। ৫০৬টি ক্রস গার্ডারের মধ্যে ৪৪টি স্থাপন হয়েছে। ফ্লাইওভারের দুই পাশে দুই হাজার ২১০মিটার ড্রেনের মধ্যে এক হাজার দুইশ’ মিটার কাজ শেষ হয়েছে।

এছাড়া ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক হাজার ৩২০মিটারের দুটি রাস্তাতেও নতুন করে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।

ফ্লাইওভারটি যত দ্রুত চালু হবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমন সময়ও অনেক সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

comments