একের পর এক হজ্ব ফ্লাইট বাতিলে অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগে আছেন হজ্বযাত্রীরা

45
শেয়ার
ছবিঃ সংগৃহিত

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজ্ব পালন করতে সৌদি আরব যাচ্ছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন।

গত ২৪ জুলাই থেকে বাংলাদেশ বিমান হজ্বযাত্রী পরিবহন শুরু করে। বাংলাদেশ বিমান মোট ৬৩ হাজার ৫৯৯ জনকে পরিবহন করবে। বাকিরা যাবেন সৌদি এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে। শেষ ফ্লাইট যাবে ২৮ আগস্ট।

কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ৫৭ হাজার ৯৫৬ জন হজ্বযাত্রী ভিসা পেয়েছেন,এবং ০৩ আগস্ট পর্যন্ত যেতে পেরেছেন ৩৩ হাজার ৬২৮ জন হজ্বযাত্রী।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পবিত্র হজ্ব যাত্রীদের শনিবারের ২টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষনা করা হয়েছে। ভিসা জটিলতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার দুপুরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিমানের বিজি ৩০৩৯ ও বিজি ৫০৩৫ ফ্লাইট দু’টি বাতিলের এ ঘোষণা দেয়া হয়।

একই কারণে শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের সৌদি আরবগামী আরেকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিলো।

এ নিয়ে সব মিলিয়ে ১৯টি হজ ফ্লাইট বাতিল হল।

এভাবে একের পর এক হজ্ব ফ্লাইট বাতিলের কারণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন হজ্বযাত্রীরা।সরকারের তরফ থেকে সংকটের সুরাহার ঘোষণা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কেবল ফ্লাইট বাতিল হয়েই চলছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং এজেন্সিগুলো একে অপরকে দোষারোপ করলেও সহসাই কোন সমাধাণের পথ দেখা না যাওয়াতে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন হজ্ব যাত্রীরা।

উভয় তরফ থেকে বলা হচ্ছে সৌদি আরবের নতুন ই-ভিসা পদ্ধতির কারণে এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এবারের হজ্ব যাত্রীদের।

এবার পাসপোর্টের সঙ্গে আলাদা কাগজে ই-ভিসা দিচ্ছে দূতাবাস। দূতাবাসের সার্ভারের জটিলতায়ও কারও কারও ভিসা পেতে সময় বেশি লাগছে।

এই ভিসা জটিলতার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এজেন্সিগুলোকে দোষারোপ করা হলেও তারা তা মানছে না। হজ্ব এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) কর্তারা বলছেন, বিষয়টি সৌদি সরকারের ওপর নির্ভর করছে। তবে শীগগিরই এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

ধর্ম মন্ত্রণালয় ভিসা জটিলতার জন্য হজ্ব এজেন্সিগুলোকে দায়ী করেছে। ইতিমধ্যে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেছেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাফিজ উদ্দিন বলেন, ভিসা জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। আমাদের হাতে এখনও সময় আছে। কাজেই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আশা করছি, সময়মতো সব সমস্যা কেটে যাবে। এজেন্সিগুলোর কর্মকাণ্ড মনিটরিং করা হচ্ছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, কোথাও কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হজ্ব এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেছেন, ভিসার বিষয়টি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটা সৌদি সরকারের ওপর নির্ভর করে। তবে এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ভিসার প্রক্রিয়া চলবে। এ সময়ের মধ্যে আশা করি সব সমস্যা কেটে যাবে। সবার ভিসা সম্পন্ন হবে এবং সবাই হজ্বে যেতে পারবেন।

বেসরকারি ব্যাবস্থাপনায় গমনেচ্ছু একজন হজ্বযাত্রী অভিযোগ করে বলেন সময়মতো ভিসা না পাওয়ায় এখনও হাজী ক্যাম্পেই অবস্থান করছেন তিনি। তিনি বলেন,’গতকালও ভিসা না পাওয়ায় চরম উদ্বেগে আছি।ক্যাম্পে আসার পরে এক সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। হিসাবের টাকা পয়সা শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ভিসা পাচ্ছিনা, ঠিক কবে পাবো তাও ঠিকভাবে কেউ বলতে পারছে না। কপালে শেষমেশ কী আছে, জানিনা’

এ রকম অসংখ্য হজ্বযাত্রী ভিসা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই হাজী ক্যাম্পে দিনাতিপাত করছেন। বেশিরভাগ হজ্বযাত্রীই কারও বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। তবে আল্লাহর ঘরে যাওয়াতে বিলম্ব হওয়ায় এক ধরনের চাপা কষ্ট আছে সবার মনে।

মন্তব্য করুন

comments