সরকারি কর্মকর্তাদের দুদক চেয়ারম্যানের হুঁশিয়ারিঃ দুর্নীতি করলে জেলে যেতে হবে

63
শেয়ার
ছবিঃ আর্কাইভ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, দুর্নীতি মুক্ত সেবা দিতে ব্যর্থ হলে কারাগারে যেতে হবে

আজ বুধবার (২ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা: দুর্নীতির অভিযোগের প্রকৃতি’ শীর্ষক মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দুদক চেয়ারম্যান এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা। জনগণেরও দুর্নীতিমুক্ত সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই কাজে ব্যর্থ হলে আপনাকে জেলে যেতে হবে।’

দুদক চেয়ারম্যান শুধুমাত্র ঘুষ খাওয়াই দুর্নীতি নয় মন্তব্য করে বলেন, ‘শুধু ঘুষ খাওয়া কি দুর্নীতি? অবশ্যই না। ১০ দিন ফাইল ফেলে রাখলেন এটাও দুর্নীতি। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই আইন মানুন, পদ্ধতি মেনে চলুন, চাপ সহ্য করে কাজ করে যান।’

অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা গত এক বছরে ৮টি বিভাগের ৫৫০ জনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের কেউ ব্যবসায়ী, কেউ সরকারি কর্মকর্তা। ব্যাংকের বহু এমডি, ব্যবসায়ী এয়াপোর্টের দিকে যেতে পারছেন না। দে আর নট অ্যালাউ টু লিভ দিস কান্ট্রি।’

দুদকের মামলা ক্যান্সারের মতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে যাতে দুদকের মামলা না হয়। এই মামলা ক্যান্সারের মতো। ক্যান্সার যেমন একটা মানুষকে ও তার পরিবারকেও শেষ করে দেয়, দুদকের মামলাও মানুষকে তার পরিবারসহ শেষ করে দেয়। এজন্য আমরা চাই আপনারা সতর্ক হন। দুর্নীতি যাতে না হয়, মামলা যাতে না হয়।’

চাপের কাছে মাথানত না করার আহ্বান জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আসুন আমরা চাপের কাছে মাথা নত না করে জনগণের কাছে মাথা নত করি। আমরা জনগণের কাছে অ্যাকাউন্টএবল, কোনো ব্যক্তির কাছে অ্যাকাউন্টএবল না।’

ভূমি অফিসের দুর্নীতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ দুর্নীতি হয় ভূমি অফিসে। আমরা চাই ভূমি অফিসসহ সব অফিস দুর্নীতিমুক্ত হোক। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসনে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায়। এই শাখা নিয়ে আমাদের কাছে প্রায়ই অভিযোগ আসে। একজন জেলা প্রশাসক হিসেবে আমি অনেক কাজ করি, আবার আমার অনেক ত্রুটিও আছে।’

সভায় দুদকের মহাপরিচালক মো. শামসুল আরেফিন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়া জনগণ কী কী অভিযোগ দিচ্ছেন তার কিছু চিত্র তুলে ধরেন।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, দুদকের মহাপরিচালক ড. মো. শামসুল আরেফিন, জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, নগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহারসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

comments