সিঙ্গাপুর যেতে সর্বোচ্চ খরচ ২ লাখ ৬২ হাজার টাকা

100
শেয়ার
ছবিঃ সংগৃহিত

এখন থেকে সিঙ্গাপুরে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সব ধরনের খরচসহ সর্বোচ্চ ব্যয় হবে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৭০ টাকা।

মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ক্ষেত্রবিশেষে ৭ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয় সিঙ্গাপুরে অভিবাসন প্রত্যাশী একজন কর্মীকে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সিঙ্গাপুরে অভিবাসন ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

৭ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা অর্থ উপার্জনে একজন শ্রমিকের প্রায় তিন বছর লেগে যায়। আবার কোনো কারণে যদি ফেরত আসতে হয়, তখন বড় অংকের ঋণের বোঝা বইতে হয়।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে গেছেন ১৯ হাজার ৭৮৪ জন। এর আগের দুবছরে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার জন বাংলাদেশী দেশটিতে যায়।

সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয়ের ওপর আরোপিত সার্ভিস চার্জ ও অভিবাসন ব্যয়সীমা বেঁধে দিয়ে গত ২৭ জুলাই একটি সরকারি আদেশ জারি করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। যদি কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি নির্ধারিত এ অভিবাসন ব্যয়ের বেশি অর্থ আদায় করে, তবে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটিতে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ওভারসিজ ট্রেনিং সেন্টারের (ওটিসি) প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৮০০ টাকা। আর অভিবাসন ব্যয় বাবদ খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৭০ টাকা। সে হিসাবে সিঙ্গাপুরে একজন কর্মী পাঠাতে সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় হবে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৭০ টাকা।

অভিবাসন ব্যয়ের ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৭০ টাকার মধ্যে পাসপোর্ট খরচ ৭ হাজার, মেডিকেল ফি ৫ হাজার, কল্যাণ ফি ৩ হাজার ৫০০, ডাটা রেজিস্ট্রেশন ফি ২০০, স্মার্ট কার্ড ২৫০, ট্রেনিং এন্ট্রি ফি ১২০, আয়কর ৪০০, পোশাক ৩ হাজার, ওয়েলফেয়ার ম্যাটেরিয়াল ২ হাজার, উড়োজাহাজ ভাড়া ২৭ হাজার, বিপণন ৪০ হাজার, রিক্রুটিং এজেন্সি সার্ভিস চার্জ ১৫ হাজার, স্থানীয় বীমা ৫ হাজার ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ফি বাবদ ৩৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন আদেশ অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে অভিবাসন প্রত্যাশী কর্মীর কাছ থেকে সার্ভিস চার্জসহ পুরো অর্থই চেক বা ব্যাংক ড্রাফট অথবা পে-অর্ডারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির অফিশিয়াল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গ্রহণ করতে হবে এবং এ সময় কর্মীকে প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ দিতে হবে। বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহণের সময় এসব ডকুমেন্ট জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোয় জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশি বেকার যুবকদের কাছে সিঙ্গাপুর যেন সোনার হরিণ। ছুঁতে পারলেই যেন ভাগ্য বদলে যায়। কাজের সন্ধানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি বাংলাদেশিদের প্রথম প্রছন্দ।

মন্তব্য করুন

comments