ঢাকা-কলকাতা ট্রেন যাত্রীদের ইমিগ্রেশন স্টেশনেই

88
শেয়ার
মৈত্রী এক্সপ্রেস । ছবিঃ সংগৃহিত

ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষের কাছে ঢাকা-কলকাতা রুটের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে ইমিগ্রেশন দুদেশের স্টেশনে সম্পন্ন করার প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

যারা কলকাতা যাবেন তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে। আর কলকাতা থেকে যারা বাংলাদেশে আসবেন তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে শিয়ালদহ স্টেশনে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান।

যার ফলশ্রুতিতে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেই সাথে ভ্রমণের সময়টাও কমবে বলে আশা করছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা এ ব্যাপারে ভারতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা এখনো চিঠির সম্মতিসূচক জবাব পাঠায়নি। আশা করছি শিগগিরই তারা সম্মতি জানিয়ে জবাব দেবেন। চিঠির জবাব পেলে খুব শিগগিরই এ সেবা চালু করা সম্ভব হবে। এজন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।

এই সার্ভিস চালু হলে ঢাকা ও কলকাতার দুই প্রান্তে শুরুতেই ইমিগ্রেশন, কাস্টমসসহ অন্যান্য দাফতরিক কাজ সেরে নেয়া হবে। ফলে মৈত্রী এক্সপ্রেসের মধ্যপথে আর কোথাও বিরতির প্রয়োজন হবে না। ট্রেনটি ননস্টপ চলাচল করবে। এতে করে যাত্রার সময় ২ থেকে ৩ ঘন্টা কমে যাবে।

কলকাতা থেকে ঢাকার দূরত্ব ৩৭৫ কিলোমিটার। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাতায়াতে যেখানে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা সময় লাগে।

রেল সূত্র জানায়, বর্তমানে মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের বাংলাদেশের দর্শনা ও ভারতের গেদে স্টেশনে ইমিগ্রেশন কাজ সারতে হয়। এ সময় যাত্রীদের সকল মালামাল নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সেরে আবারো মালামাল নিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়।

আর ইমিগ্রেশনের কাজ সারতে মাঝপথে চলে যায় তিন ঘণ্টা সময়। বিষয়টি অনেক সময় যাত্রীদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মৈত্রী এক্সপ্রেসের ভেতরে খাদ্য-পানীয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকায় মাঝ পথে কোথাও থামানোর প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য, দুই বন্ধু প্রতীম দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্প্রসারণে দীর্ঘ ৪৩ বছর পর ২০০৮ সালে মৈত্রী ট্রেনের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ছাড়া ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে এখন সপ্তাহে ৬ দিন মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচল করে।

গত এপ্রিল থেকে ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচল করছে পুরো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন। ভাড়া ভ্রমণ করসহ ১,৬৩৩ টাকা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সঙ্গে ৫ বছরের নিচের বয়সের শিশুদের ৫০ শতাংশ কম ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারে।

১৯৬৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ ছয়টি সীমান্ত দিয়ে রেল যোগাযোগ চালু ছিল। তখন খুলনা-কলকাতার পাশাপাশি দার্জিলিং মেইল যেত পার্বতীপুর-শিলিগুড়ি। কিন্তু ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর সব ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার সেই লাইনগুলো চালুর ওপর জোর দিয়েছে দুই দেশ।

মন্তব্য করুন

comments