‘হাত দিয়ে জ্বিন ধরতেন’ এবিসি রেডিওর রাদবি রেজা

247
শেয়ার

অনলাইনে প্রতারণা করার অভিযোগে রাদবি রেজা নামের এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কয়েক বছর ধরে নিজেকে অতিমানবীয় ক্ষমতার অধিকারী দাবি করে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে রেজার বিরুদ্ধে।

১ মার্চ, বৃহস্পতিবার রাতে রাদবিকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ শুক্রবার সিআইডির সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

এবিসি রেডিওতে ‘টেরট কার্ড সেগমেন্ট’ নামে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন রেজা।

হাত দিয়ে জ্বিন ধরা, ব্রেইন দিয়ে লাইট জ্বালাতে পারা, খালি হাতে মোম জ্বালানো ও টেরট কার্ডের মাধ্যমে মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বলে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে রেজা টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান,গ্রেফতারকৃত রেজা ওরফে টেরট বাবা ২০১৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে এবিসি রেডিওর ‘ডর’ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। এর আগে ওই অনুষ্ঠানে শুধু ভৌতিক গল্প শোনানো হতো। কিন্তু রাদবি রেজা যুক্ত হওয়ার পর শুরু হয় মানুষের নানাবিধ সমস্যার সমাধান পর্ব ‘টেরট কার্ড সেগমেন্ট’। সাধারণ মানুষকে ফোন করে ও পরিচয় দিয়ে সেখানে অংশগ্রহণ করতে হতো। সেই অংশে রেজা মানুষের অতীত, বর্তমান ও ভবিষৎ বলে জ্বিন-ভূতের ভয় দেখাতেন। এর মাধ্যমে সহজ-সরল মানুষের কাছে আতর, মুক্তা, আংটি চড়া দামে বিক্রি করতেন তিনি।

নজরুল ইসলাম জানান, তাই রেজা সহজেই মানুষের কাছ থেকে তাঁদের ফোন নম্বর পেয়ে যেতেন। সংগৃহীত নাম ও নম্বর দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার্চ করে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতেন। মানুষ যখন তার সঙ্গে দেখা করত, তখন তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অনেক তথ্যই আগেভাগে বলে দিতে পারতেন। তখন উক্ত ব্যক্তির মনে একটা ধারণা জন্ম নিত যে তিনি অনেক কিছু জানেন বা অতিমানবীয় শক্তির অধিকারী।

মোল্লা নজরুল ইসলাম আরো বলেন, যেহেতু অনুষ্ঠানটি জনপ্রিয় রেডিও চ্যানেল এবিসি রেডিও ৮৯.২ এফএমে প্রচার করা হতো, তাই অল্প সময়ের মধ্যেই এটি লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যেত। তার এই অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ বলে দেওয়াকে সহজ সরল মানুষ সত্য ভেবে তাঁর ভক্ত হয়ে যেত। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আদায় করতেন। মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য আতর, মুক্তা, আংটি ইত্যাদি বিক্রি করা হতো।

সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, চড়া দামে পণ্য কিনে স্বাভাবিকভাবেই কারো কোনো উপকার হয়নি। প্রতারণার শিকার বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী রেজার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামলা করেন। সেসব মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

নজরুল ইসলাম জানান, রেজা ফেসবুক ও ইউটিউবে বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেগুলোতে দেখানো হয়, তিনি হাত দিয়ে জ্বিন ধরতে পারেন, খালি হাতে মোমবাতি জ্বালাতে পারেন। বিভিন্ন রঙের কার্ড দেখিয়েও প্রতারণা করেন এই যুবক।

সিআইডির এই পুলিশ সুপার আরও জানান, একই ধরনের ঘটনায় জনপ্রিয় রেজিও জকি (আরজে) কিবরিয়াকে চাকরিচ্যুত করেছে এবিসি রেডিও কর্তৃপক্ষ। একই ধরনের প্রতারণায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও গ্রেফতার করা হবে।

এর আগে ২০১২ সালে ২০টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ রেজাকে গ্রেপ্তার করেছিল বলেও জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার।

মন্তব্য করুন

comments