চেঁচামেচি করায় শিশুকে গুলি করে হত্যা

60
শেয়ার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় খেলার সময় চিৎকার-চেঁচামেচি করায় সাদেক হোসেন (৭) নামে এক শিশুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় মো. মুজাহিদ (৮) নামে আরও এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব রঙ্গিখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাদেক টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব রঙ্গিখালী গ্রামের দিনমজুর কাদের হোসেনের ছেলে। আহত গুলিবিদ্ধ মুজাহিদ একই গ্রামের বেলা উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় হত্যাকারী মো. বেলালকে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। সে ওই এলাকার কবির আহমেদের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দিন খান। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে পূর্ব রঙ্গিখালী এলাকায় সাদেক হোসেন ও মো. মুজাহিদসহ কয়েক শিশু পাশের এক খোলা জায়গায় বেলুন নিয়ে খেলা করছিল। এ সময় শিশুরা চিৎকার করলে বেলাল তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে শিশু সাদেক হোসেন ও মো. মুজাহিদকে মারধর করে। একপর্যায়ে শিশু মুজাহিদের মা নুর আয়েশা ঘর থেকে বের হয়ে এসে কেন তার ছেলেকে মারধর করল জানতে চাইলে, তাকেও মারধর করে। পরে নিজ ঘর থেকে অস্ত্র বের করে তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে বেলাল। এতে ওই দুই শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক সাদেক হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. জাকারিয়া বলেন, স্থানীয় লোকজন বিকেলে গুলিবিদ্ধ দুই শিশুকে স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়ে আসেন। এর মধ্যে এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশুর মুখে-মাথায় এবং আহত শিশুর পায়ে বেশ কয়েকটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।

ওসি জানান, গুলিবর্ষণের ঘটনায় হত্যাকারী মো. বেলালকে আটক করা হয়েছে। তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

গুলিবিদ্ধ শিশু মুজাহিদের মা নুর আয়েশা বলেন, শিশুরা বেলুন নিয়ে খেলা করার সময় চিৎকার করলে বেলাল তাদের ব্যাপক মারধর করে। পরে ঘটনাটি জানার জন্য গেলে আমাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। সামান্যের জন্য আমি বেঁচে গেলেও আমার ছেলেসহ দুই শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। এতে এক শিশু প্রাণ হারায়। এখন আমার ছেলেও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।

মন্তব্য করুন

comments