উখিয়াতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বিদেশিসহ আটক ২৬

151
শেয়ার

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাফেরা করার সময় পাঁচ বিদেশি সহ ২৬ জনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।এসব বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন একজন চায়নার নাগরিক এবং অপর ৪ জন ব্রিটিশ নাগরিক। পরে ওই পাঁচ বিদেশিকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে ১০ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ১১ জনকে পুলিশ আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।সোমবার রাতে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের অরণ্যঘেরা এলাকা লম্বা শিয়া ও শিবিরের ডি-৪ এলাকার বস্তি হিসাবে পরিচিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশের উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) চাই লাউ মার্মা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা শিবিরে বিকেল পাঁচটার পরে বাইরের লোকজনের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৪ বৃটিশ ও ১ চীনা নাগরিক সহ ২৬ জন সন্দেহজনক ভাবে ঘুরাফের করছিলো। সোমবার রাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।এ ছাড়া আটক বাকি ২১ জনের মধ্যে ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। বাকি ১১ জনকে উখিয়া থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অভিযানের নেতৃত্বদানকারী কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) খালেদ মাহমুদ জানান, আমি রীতিমতো হতবাক হয়েছি, এমন পাহাড়ী এলাকায় এত রাতে বিদেশি নাগরিকদের ঘুরাঘুরি দেখতে পেয়ে। তাদের নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে হলেও এত রাতে এখানে অবস্থান করার কথা নয়।

এসব বিদেশি নাগরিকদের রাতের বেলায় রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থানের কথা সরকারের পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও কোনো অনুমতি নেই জানান এডিএম। এমনকি জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তারও নিকট জানা নেই রাতের বেলায় বিদেশি নাগরিকগনের রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থানের কথা।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, মাত্র দেড় ঘণ্টার অভিযানে তারা ৫ জন বিদেশি নাগরিককে রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এবং অলিগলিতে অজানা কারণে ঘুরাঘুরি করার সময় হাতেনাতে পেয়েছেন। তাদের কারো কাছে বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেই রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থানের জন্য।এমনকি তারা সীমান্তবর্তী এলাকা তদুপরি রোহিঙ্গা শিবিরের মতো একটি স্পর্শকাতর পাহাড়ী এলাকায় অবস্থান করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণও দেখাতে পারেননি।এ কারণে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে আচরণবিধি মেনে লিখিত কাগজ নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments