X

প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়েই আত্মহত্যা মডেল রাউধার

আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ভোগ’র মডেল রাউধা আতিফ ‘প্রেমে ব্যর্থ হয়েই আত্মহত্যা’ করেছিলেন বলে তার মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত-১ এ ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনপ্রবাসী মালদ্বীপের তরুণ শাহী গণির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেম ছিল রাউধার। গত ২৯ মার্চ মৃত্যুর আগের রাত ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত তার সঙ্গেই হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন রাউধা। সেখানে শাহী গণিকে রাউধা বলেছিলেন, ‘এখন আমাদের বিয়ে করা উচিত।’ কিন্তু শাহী গণি তাকে প্রত্যাখান করেন।
এর আগে দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল, মালদ্বীপের ‘নীল নয়না’ এই মডেল আত্মহত্যা করেছেন।

রাজশাহী মহানগর জজ আদালতের পরিদর্শক আবুল হাশেম জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আসমাউল হক সোমবার সন্ধ্যায় মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। মঙ্গলবার দুপুরে সেটি রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত-১ এ উপস্থাপন করা হয়।

তিনি আরও জানান, মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। রাউধাকে হত্যা করা হয়েছিল, এমনটিও বলা হয়নি। তাই বাদীপক্ষের আইনজীবী এই প্রতিবেদনে নারাজি দিতে চান। এ জন্য তিনি বিচারক মাহবুবুর রহমানের কাছে সময় প্রার্থনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে আদালত এখনও কোনো আদেশ দেননি।

এদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আসমাউল হক জানান, দুই দফার ময়নাতদন্ত , ভিসেরা ও মোবাইল ফোন পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, রাউধা আত্মহত্যাই করেছিলেন। এরপরই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদন দাখিলের আগে এ বিষয়টি রাউধার বাবাকেও অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আসমাউল হক বলেন, “প্রেমে ব্যর্থ হয়েই রাউধা আত্মহত্যা করেছিলেন। মালদ্বীপের শাহী গণি নামের এক যুবকের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই যুবক পড়াশোনার জন্য লন্ডনে থাকেন। রাউধার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে জানা গেছে, শাহীর সঙ্গে রাউধার সম্পর্ক ভেঙ্গে গিয়েছিল। এই নিয়ে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন রাউধা।

২৯ মার্চ রাত ২টা ৪০ মিনিটে দুজনের শেষ কথা হয়। সেখানে দেখা গেছে, রাউধা গণিকে বলছেন, ‘এখন আমাদের বিয়ে করা উচিত।’ ওই সময় শাহী গণি তাকে প্রত্যাখান করেন।
এর আগেও দুজনে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় একত্রে ঘোরাঘুরি করেছেন।

ওই সময় হুগলি নদীতে নৌভ্রমণের সময় গণির সঙ্গে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে দিয়ে রাউধা লিখেছিলেন, ‘জীবনের সবচেয়ে সুখের মূহূর্ত।’ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ওই ছবিও আদালতে দাখিল করেছি।”

এ বিষয়ে শাহী গণির বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা হবে কিনা—জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘শাহী গণি সরাসরি রাউধাকে আত্মহত্যা করতে বলেননি। তাছাড়া তারা দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং অনেক দুরত্বের দুটি দেশে দুজন বসবাস করছিলেন। তাই তার বিরুদ্ধে প্ররোচনার মামলা হবার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এমনটি হলে আমরাই তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে দিতাম।’

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ রাজশাহীর নওদাপাড়ায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রীনিবাস থেকে রাউধা আতিফের (২২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী

মন্তব্য করুন

comments