১৫ বছরের কিশোরী মা আবারো অন্তঃসত্ত্বা!

52
শেয়ার

বাংলাদেশে আশ্রিত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর বেশির ভাগ মেয়ের কোলেই হয় মাস চার, কিংবা মাস সাত কিংবা বছর খানেকের সন্তান।পালংখালির শিবিরে সরকারি জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী জানালেন, সেখানে শিবিরে দশ মাসের শিশু কোলে একটি কিশোরী এসেছিল। তার বয়স বড়জোর পনেরো। সেই কিশোরীও আবার ছ’মাসের গর্ভবতী!

জাতিসংঘের এক সংগঠন জানিয়েছে, ২৫ আগস্টের পর থেকে কতুপালং থেকে শুরু করে পালংখালি, বান্দারবনে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থী মহিলাদের বেশির ভাগেরই সন্তান সংখ্যা কম করে পাঁচ। ইতিমধ্যেই গত এক মাসে ২০০টি রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হয়েছে। সন্তানসম্ভবা অন্তত ১৮ হাজার রোহিঙ্গা মহিলা। ফলে আগামী কয়েক মাসে আরও হাজারখানেক রোহিঙ্গা শিশু বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নেবে।মায়ানমার সরকার এদের কোনও নাগরিকত্ব স্বীকার না করায় সরকারি সুবিধা কিংবা চিকিৎসা কোনওটাই এরা পায়নি।কোনও টিকাকরণ হয়নি। জন্ম-নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সচেতনতাও নেই। শরণার্থী শিবিরে অবশ্য তাঁদের প্রোটিন বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। টিকাকরণ হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশ কী ভাবে চলবে, আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করছে সেটা।

মঙ্গলবার কক্সবাজার থেকে পালংখালি পর্যন্ত জাতীয় সড়কের উপর থেকে শরণার্থীদের সরানোর কাজও শুরু হয়েছে। রাস্তার পাশে দু’হাজার একর সরকারি খাস জমি। সেখানেই শরণার্থীদের রাখার ব্যবস্থা করছে সরকার। শরণার্থীদের নাম নথিভুক্ত করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার যে নজির তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রচার চোখে পড়ছে কক্সবাজার থেকে শুরু করে টেকনাফ পর্যন্ত, বস্তুত সারা দেশেই। আবার এও ঠিক, আপাতত বাংলাদেশ যে এত শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে পেরেছে, তার কারণ জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা এগিয়ে এসেছে ত্রাণ নিয়ে।

তবে শেষ পর্যন্ত যদি এরা মিয়ানমারে ফিরে যেতে না পারে তাহলে বাংলাদেশের অবস্থা কি হবে সেটা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞ মহল।

মন্তব্য করুন

comments