প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়াতে খুন করা হয় কলেজছাত্রী ইতি চাকমাকে

70
শেয়ার

খাগড়াছড়ির মেধাবি কলেজছাত্রী ইতি চাকমা খুনের প্রধান আসামি তুষার চাকমাকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে সোমবার বিকালে খাগড়াছড়ির জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালতে তোলার পর কলেজছাত্রী ইতি চাকমা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

ইতি চাকমা খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী ছিলো।গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে জেলা শহরের শান্তিনগর এলাকার ভগ্নিপতির ভাড়া বাসা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ইতি চাকমার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং পরবর্তী সময়ে সিআইডির সহায়তায় সুনির্দিষ্ট প্রমাণ জোগাড় করে তুষারকে আটক করা হয়।

জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার বিকালে তাকে জেলা সদরের চেঙ্গীস্কোয়ার এলাকা হতে আটক করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন, ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) আব্দুর রকিব, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান ও উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। তুষার চাকমা খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র। সে রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ির বাসিন্দা সুনীল চাকমার ছেলে।

গ্রেফতারকৃত তুষারের বরাত দিয়ে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাউদ্দীন জানান, তুষারের বন্ধু রনি চাকমার সঙ্গে ইতির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে ইতি অন্য ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পরিবারের অন্য সদস্যের অনুপস্থিতিতে রনি ও তুষারসহ পাঁচজন মিলে ইতিকে হত্যা করে।এ ঘটনায় নিহত ইতি চাকমার বড় বোন জোনাকি চাকমা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছিলেন। ওই ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।হত্যাকাণ্ডেরে রহস্য উদঘাটন সহযোগিতা করে চট্টগ্রাম সিআইডি।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহমদ জানিয়েছেন, অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শিগগিরই বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন

comments