“আমি শুধু আমার অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি চাই”

84
শেয়ার

খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ এনে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ধর্ষিতা কিশোরী ও তার পরিবার। ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী রহিমা আক্তার তার অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি চাইতে গিয়ে পুরো পরিবার হুমকির মুখে পড়েছেন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছেন তারা।

বৃহস্পতিবার(৩১ আগস্ট) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন, ধর্ষিতা কিশোরী ও তার পরিবার। সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষককে সহযোগিতারও অভিযোগ করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে ধর্ষিতা রহিমা বেগম, তার পিতা আহসান উল্লাহ ও বড় ভাই আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জেলার রামগড় উপজেলার ফেনীর কুল গ্রামের বাসিন্দা রিকশা চালক আহসান উল্লাহর মেয়ে রহিমা আক্তারকে পার্শ্ববর্তী মোস্তফা কামাল প্রকাশ বৈদ্যর ছেলে আরমান হোসেন প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এতে রহিমা আক্তার সাড়া না দেওয়ায় ধর্ষক আরমান হোসেন আত্মহত্যারও চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে রহিমা আক্তার তাকে বিশ্বাস করে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। পরে আরমান হোসেন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করে। এতে রহিমা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে আরমান হোসেন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে রহিম ও তার পরিবারের পক্ষ্য থেকে বলা হয়, এ নিয়ে কয়েক দফা গ্রাম্য সালিশও হয়। কিন্তু আরমান হোসেনের পরিবার রহিমা আক্তারকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করলে গত ১ লা আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়। পুলিশ আসামি আরমান হোসেনকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। তবে রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে শীঘ্রই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানান।

রহিমা আক্তার জানান, আরমান হোসেনের পরিবার খুবই প্রভাবশালী। তাদের সাথে লড়াই করার ক্ষমতা আমার নেই। আমি শুধু আমার অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি চাই। অর্থ-সম্পদসহ আর কোন দাবি আমার নেই। রহিমা আক্তার এ স্বীকৃতি লড়াইয়ে নারী সংগঠনসহ সকল বিবেকবান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।

কিন্তু রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে শিগগিরই মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হবে বলে জানান।

মন্তব্য করুন

comments