X

ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকেও আসছে কোরবানির পশু

ছবিঃ সংগৃহিত

কোরবানি সামনে রেখে ভারতের পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডর দিয়ে মিয়ানমার থেকেও আসছে গরু ও মহিষ।

বৈরি আবহাওয়া, আরাকান রাজ্যে ফের অস্থিরতার মাঝেও দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে আসছে এসব কোরবানির পশু। কোরবানি সামনে রেখে এসব পশু বৈধ ও অবৈধ পথে আনা হচ্ছে। টাকা লেনদেনের বৈধ প্রক্রিয়া না থাকায় অনেকটা সমঝোতা ও হুন্ডির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা।

টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৭–১৮ অর্থবছরে এ পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৪৩৭টি পশু আমদানি খাতে ৬৭ লাখ ১৭ হাজার ৯০০ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৩৭টি গরু এবং ১ হাজার ২০টি মহিষ আমদানি খাতে ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং জুলাই মাসে ৪ হাজার ৬৭১টি গরু, ২ হাজার ৭টি মহিষ ও ২টি ছাগল আমদানি করে আদায় হয়েছে ৩৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এভাবে গবাদি পশু আমদানি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় বাজারে পশুর সংকট থাকবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া পর্যাপ্ত পশু দেশে থাকায় দামও ক্রেতাদের ক্রয়সীমার মধ্যে থাকবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে ২০১৬–১৭ অর্থবছরে ৫৪ হাজার ৪৯৬টি গরু, ১২ হাজার ৩৯৫টি মহিষ ও ৪৫টি ছাগল আমদানি হয়। এতে রাজস্ব আদায় হয় ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

২০১৫–১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। শুল্ক বিভাগ জানায়, মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে গবাদি পশু আসা রোধে ২০০৩ সালের ২৫ মে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর চালু করা হয়। এতে প্রতি গরু–মহিষের জন্য ৫০০ টাকা ও ছাগল ২০০ টাকা হারে রাজস্ব আদায় করা হয়। বিজিবি ও শুল্ক বিভাগের সহায়তায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা হয়। তবে করিডর প্রতিষ্ঠার এক যুগ পার হলেও কলামসরকারি ব্যবস্থাপনায় অবকাঠামোসহ কোনো স্থাপনা গড়ে উঠেনি। ফলে আমদানি করা গবাদি পশু নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।

জানা যায়, মিয়ানমার থেকে গত ১৪ আগস্ট শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে সাতটি ট্রলারে প্রায় ৫শ গবাদি পশু আমদানি করা হয়েছে। গত রোববার পাঁচটি ট্রলারে ৪২৬টি পশু আমদানি করা হয়।

আমদানিকারকরা জানান, নাফ নদী ও সাগরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের বাধা না থাকলে কোরবানের আগে আরো ৩০ থেকে ৪০ হাজার পশু আমদানি করা যাবে। মিয়ানমার থেকে পশু বোঝাই ট্রলারগুলোকে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে আসতে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদী দিয়ে ১২ ঘণ্টার বেশি পাড়ি দিতে হয়। এতে সাগর উত্তাল থাকলে মাঝেমধ্যে পশুবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে।

টেকনাফের পশু ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদা থাকায় মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু মিয়ানমার থেকে ঝুঁকি নিয়ে পশু আমদানি করা হলেও করিডোরে ট্রলার থেকে নামানোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ব্যাংক ও শুল্ক বিভাগের শাখা না থাকায় সমস্যা হয়। তাছাড়া গত ৫ বছর ধরে শাহপরীর দ্বীপ সড়কটিও বিচ্ছিন্ন। যার ফলে যাতায়াত ও পশু পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

টেকনাফ শুল্ক কর্মকর্তা এ কে এম মোশারফ হোসেন বলেন, গত অর্থবছরে ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পশু ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় পশু আমদানিতে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়। করিডোর প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়। করিডোরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যাতায়াতের সুব্যবস্থা হলে আগামীতে আরো বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন খান বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে গবাদি পশু কিনতে আসছেন। তাই পশু সরবরাহে পথে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি যাতে না হয়, সে জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুলিশের টিম কাজ করছে।

মন্তব্য করুন

comments