“ভালো থাকবেন প্রতিবেশীরা, ভালো থেকো সহপাঠী বন্ধুরা…”

85
শেয়ার

এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের সম্মিলিত পাসের হার ৪৯.৫২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৮ জন।

এ বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ সর্বনিম্ন হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যেমন হতাশ হয়েছেন তেমনি এই বোর্ডের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে আত্মহত্যার মিছিল, একের পর এক আত্মহত্যা করে চলেছে এই বোর্ডের শিক্ষার্থীরা।

এই পর্যন্ত মোট এগার জনের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে কুমিল্লায়।

কুমিল্লা বোর্ডের সুইসাইড করা ১১ জন ছাত্রের মধ্যে অরিন্দম সৈকত নামের এক জন শিক্ষার্থী মৃত্যুর আগে সুইসাইড নোট এবং ফেসবুক ষ্ট্যাটাস দিয়ে গেছেন যা এখন ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

অরিন্দম সৈকত যে সুইসাইড নোট রেখে গেছেন তা চাঁটগা পোর্টালের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো;

“আগামি বছর আবার পরীক্ষা দিবো। মা, বাবাকে বুঝাইছি।সবাই স্বাভাবিক ছিলো, আমিও। কিন্তু একের পর এক প্রতিবেশী সহপার্ঠীরা মিষ্টি আর কথার খোঁচা নিয়ে হাজির হতে লাগলো।

আমার মায়ের মাথা খারাপ হয়ে গেলো।
বাবা ও আমাকে গালিগালাজ করলো। যে মা বাবা গতকাল আমার মাথায় হাত রেখে বলছিলো চিন্তা করিস না, বুড়ো হয়ে যাস নাই। সামনের বার আবার পরীক্ষা দিস, বছর যাইতে কয়দিন।

অথচ, প্রতিবেশীদের মিষ্টি পেয়ে সেই বাবা মা আমাকে জুতা দিয়ে পিঠলো, শুধু তাই নয়, আমার উপর রাগ করে বাবা পাতের ভাত লাথি মেরে ফেলে দিলো।

অনেক চেষ্টা করেছি লুকিয়ে থাকার, পারলাম না।প্রতিবেশীরা এক হাত জিহ্ববা বের করে অনুশোচনা করলো, শুধু অনুশোচনা নয়, আমার জন্য নাকি আমার মা দায়ী। মায়ের আস্কারা পেয়ে আমি নষ্ট হয়ে গেছি।

তাদের কৈফিয়ত পেয়ে আমার বাবা মা কে উঠানে প্রচুর মেরেছে। মা এখনো বেহুঁশ। মার জ্ঞান ফিরার আগেই পৃথিবীকে বিদায় জানালাম।

ভালো থাকবেন প্রতিবেশীরা,
ভালো থেকো সহপাঠী বন্ধুরা…”

গত ২৩ই জুলাই এইচএসসি পরীক্ষার ফল বের হলে অরিন্দম আইসিটিতে ফেল করে।নিজের এ ব্যার্থতাকে মেনে নিতে না পেরে সে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়।

২৪ই জুলাই রাত ১০ টায় পোষ্ট করা অরিন্দমের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলোঃ
“এতো জিপিএ ৫-পাশের ভীড়ে,
আমার স্ট্যাটাস গুলো কী কারো চোখে পড়ে?

পড়বে না। পরার কথাও না।
যেদিন আমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়বে এই নীল সাদার দুনিয়ায়,যেদিন আমার মৃত্যুর খবর পত্রিকায় ছাপবে…ঠিক সেইদিন হয়তো “miss you” #RIP হ্যাশট্যাগে ভড়ে উঠবে ফেইসবুক ওয়াল।
আমার সাথেই চলে যাবে আমার না বলা কথা গুলো!

এইটাই তো দুনিয়া। এইটাই তো একজন মানুষের মৃত্যু পরবর্তী অন্তস্টিক্রিয়া!
এটাই তো হেরে যাওয়া এক সৈনিকের প্রাপ্তি!”

ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দেয়ার পরের দিনই সে আত্মহত্যা করে।

মন্তব্য করুন

comments