কাতারের ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ে আরব আমিরাত জড়িত; আছে প্রমাণ

46
শেয়ার
প্রতিকী ছবি

সম্প্রতি কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাইটগুলো হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেই যে সাইবার হামলা চালানো হয়েছে সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রমাণ আছে বলে দাবি করেছে কাতার।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল দাবি করে, এপ্রিলের শুরুতেই কাতার নিউজ এজেন্সি (কিউএনএ) হ্যাক করার পরিকল্পনা করা হয়। মার্কিন গোয়েন্দারাও মনে করেন এ ঘটনার পেছনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাত রয়েছে।

মে মাসের শেষের দিকে কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কাতার নিউজ এজেন্ট (কিউএনএ) এবং সরকারি সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়। হ্যাকাররা কিউএনএর ওয়েবসাইটে একটি ভুয়া প্রতিবেদন যুক্ত করে দেয়। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ইরান, হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছেন।

এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। তবে শুরু থেকেই কাতার দাবি করে আসছে, দেশটির আমির কখনোই এ ধরনের মন্তব্য করেননি বরং কিউএনএর ওয়েবসাইট হ্যাক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা তখন এ হ্যাকিংয়ের খবরটি নিশ্চিত করতে পারলেও নেপথ্যে কারা আছে তা এতদিন শনাক্ত করতে পারেননি।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সহকারি পরিচালক ক্যাপ্টেন ওঠমান সালেম আল হামুদ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, হ্যাকিং-এর মান ও মাত্রা এতোটাই পেশাদার যে বলা যায় এর পেছনে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ’ বিনিয়োগ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিসযটি এখন প্রসিকিউটরদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

যদিও মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ২৩ মে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কয়েকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এক সভায় এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে এ হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি সরাসরি আরব আমিরা ঘটিয়েছে নাকি অন্য কাউকে দিয়ে করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, নতুন করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত হয়েছেন, হ্যাকিংয়ের সঙ্গে আমিরাতের সংযোগ রয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ মে গভীর রাত থেকে ২৫ মে ভোর পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। পরে কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের আইটি বিশেষজ্ঞরা সাইটের নিয়ন্ত্রণ নেন।

মন্তব্য করুন

comments