X

রক্তাক্ত ওমরান দাগনিশ,বিপন্ন মানবতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি

অ্যাম্বুল্যান্সের কমলা রঙের চেয়ারে বছর পাঁচেকের ছোট এক শিশু বসা, ধূলোমাখা শরীর তার, শরীরের তুলনায় অনেকটাই বড় সেই চেয়ার। মুখের এক পাশ দিয়ে কপাল থেকে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত যা ধূলো মাখা চেহারার মধ্যে ও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, চুলের উপরেও পুরু ধুলোর চাদর। মাত্র মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার আতংক তার চোখে-মুখে। কিছুটা যেন হতবাক হয়ে বসে আছে পাঁচ বছরের ওমরান। কয়েক সেকেন্ড পরে হাত বুলিয়ে মাথা থেকে রক্ত মোছার চেষ্টা করল সে। হাতে লাগা রক্তের দিকে তাকিয়ে রইল কিছু ক্ষণ, মনে হয় নিজের রক্ত দেখে নিজেই হতবাক হলো সে। তার পর রক্তমাখা হাতটা অ্যাম্বুল্যান্সের সিটে মুছে ফেলল।

সম্প্রতি একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়, বৃহস্পতিবার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছে আলেপ্পো মিডিয়া সেন্টার (AMC) নামে সিরিয়ার একটি সরকার বিরোধী সংগঠন। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে ওমরানকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুল্যান্সের পিছনের আসনে বসানো হচ্ছে।পরে তার পাশে এনে বসানো হয় আরও দু’টি আহত শিশুকে।বুধবার রাতে রুশ বিমান হানায় ভেঙে পড়ে ওমরানদের বাড়ি। ধ্বসংস্তূপের তলা থেকে তাকে বার করে আনেন উদ্ধারকারীরা। তার পর অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তখনই তোলা হয়েছিল ভিডিওটি। সিরিয়ার সরকার-বিরোধী বিক্ষোভকারীরা সেই ভিডিও ইন্টারনেটে পোস্ট করার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় সেটি। ঠিক যেমন হয়েছিল সিরিয়ার আর এক শিশু, আয়লান কুর্দির ছবিও।

আয়লান কুর্দির পরে ওমরান দাগনিশ। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় নতুন মুখ! দেশটির গৃহযুদ্ধ আর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য বিভিন্ন পক্ষের চলমান লড়াই এর ভয়াবহতার স্বীকার এই ওমরান দাগনিশ।

ওমরান এ যাত্রায় রক্ষা পেলেও মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিলো আয়লানকে।সৈকতে পড়ে থাকা আয়লানের সেই ছবি স্মৃতি থেকে মুছে যাওয়ার আগেই ভেসে উঠল আরও একটি অসহায় শিশুর রক্তাক্ত মুখ। ভিডিওটি তোলেন মোহাম্মদ রাসলান নামে এক চিত্র সাংবাদিক। বিমান হানার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাসলান-সহ কয়েক জন সাংবাদিক। উদ্ধার কাজে হাত লাগান তাঁরাও। রাসলান জানান, ধ্বংস্তূপের তলা থেকে প্রথমেই উদ্ধার করা হয় ওমরান, তার বাবা ও তার তিন বোনকে। রাসলানের কথায়, ‘‘আমরা একের পর এক আহতকে ধ্বংসস্তূপ থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। ছোটদের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে দেওয়া হয়। তবে ওমরানের মায়ের গোড়ালি কংক্রিটের চাঁইয়ে আটকে গিয়েছিল বলে তাঁকে বার করতে একটু সময় লেগেছিল।’’
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় চোট লাগে ওমরানের। সে দিন রাতেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবারের বিমানহানায় আহত হয় আরও ১২টি শিশু। তাদের সকলেরই বয়স পনেরোর নীচে।

মন্তব্য করুন

comments