কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা : স্বীকৃতি দেবে না ইউরোপ ও আমেরিকা

31
শেয়ার
স্বাধীনতা ঘোষণার পর বার্সেলোনার রাস্তায় কাতালানদের উল্লাস

স্পেন থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দিয়েছে কাতালোনিয়া। শুক্রবার আঞ্চলিক পার্লামেন্টে এ ব্যাপারে ভোটের পর স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয় কাতালোনিয়ায় সরাসরি শাসন জারির কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই কাতালোনিয়ার পার্লামেন্ট স্বাধীনতা ঘোষণার পক্ষে রায় দেয়।

ইউরোপের বড় বড় কোনো শক্তিই কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবে না। যুক্তরাষ্ট্রও কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবে না বল জানানো হয়েছে।

স্পেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে জার্মানি। অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানা রাহয়-এর কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ফ্রান্স।
ব্রিটেন বলেছে, স্পেনের অখণ্ডতা অটুট থাকুক এবং তাদের সংবিধান সমুন্নত থাকুক এটি তাদের প্রত্যাশা।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র একজন মুখপাত্র বলেন, যে গণভোটের উপর ভিত্তি করে কতালোনিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে সে গণভোট অবৈধ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, কাতালোনিয়া স্পেনের অখণ্ড অংশ।

বড় কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের কোনো স্বীকৃতি বা সমর্থন না পেলেও স্বাধীনতার দাবিতে অনড় রয়েছে কাতালোনিয়া বিরাট একটি অংশ।
গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে কাতালোনিয়ায় প্রত্যক্ষ শাসন চালু করা জরুরি হয়ে পড়ার দাবি করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী রাহয়।

স্পেন থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতার প্রশ্নে পার্লামেন্টের ৭০ জন পক্ষে ভোট দেন এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে ১০ জনের। খালি ব্যালট জমা পড়েছে দুইটি।

শুক্রবার বিকেলে বার্সেলোনায় অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তবে স্বাধীনতা বিরোধীরা ভোট বর্জন করেছেন। ভোট বয়কট করে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে গেছেন সোশালিস্ট পার্টি, পিপলস পার্টি ও সিউদাদানোসের পার্লামেন্ট সদস্যরা।

স্পেনের অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যারা স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছেন তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

স্পেনের সংবিধানের ১৫৫ নম্বর ধারা মোতাবেক কাতালোনিয়ার উপর সরাসরি শাসন জারির কথা উঠেছে। ওই ধারা অনুযায়ী কাতালোনিয়ার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারবে মাদ্রিদ সরকার।

কাতালোনিয়া আঞ্চলিক সরকারের প্রধান কার্লোস পুজেমন এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ও স্পেনের সাবেক স্বৈরাচার ফ্রাঙ্কো-পরবর্তী সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অনাচার বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, স্বাধীনতার প্রশ্নে কাতালোনিয়ার ভোটকে অবৈধ ঘোষণা দিয়েছে মাদ্রিদ সরকার।

মন্তব্য করুন

comments