লাস ভেগাসে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস

37
শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে উন্মুক্ত কনসার্টে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। আইএসে দাবি, হামলাকারী স্টিফেন পোডাক ধর্মান্তরিত মুসলিম।

লাস ভেগাসে কনসার্টস্থলের পাশে থাকা মান্দালাই বে হোটেলের ৩২তলা থেকে বন্দুকধারী স্টিফেন ওই উন্মুক্ত কনসার্টে গুলি ছোড়ে। এতে অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয় পাঁচ শতাধিক মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বন্দুক হামলা।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি কর্মকাণ্ড পর্যালোচনাকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক রিটা কাৎজ টুইটারে আইএসের দায় স্বীকার করার কথা জানিয়েছেন।

অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে রিটা কাৎজ জানান, আইএসের আমাক সংবাদ সংস্থায় দুটি বিবৃতির মাধ্যমে ১ অক্টোবর লাস ভেগাসে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। প্রথম বিবৃতিতে আইএস দাবি করেছে তাদের একদল সেনা এই হামলা চালিয়েছে। দ্বিতীয় বিবৃতিতে বলা হয়, হামলাকারী কয়েক মাস আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।

রিটা আরও জানান, হামলার দিনই টেলিগ্রাম অ্যাপসে আরবিতে এই দুটি বিবৃতি পোস্ট করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সংগীত উৎসবের অংশ হিসেবে লাস ভেগাস শহরে মান্দালয় বে হোটেলে কনসার্ট চলার সময় বন্দুকধারীর হামলা হয়। হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। লাস ভেগাসে হামলাকারী হিসেবে পুলিশ নেভাদার বাসিন্দা ৬৪ বছরের স্টিফেন প্যাডককে শনাক্ত করেছে।

রয়টার্স জানায়, আইএসের সংবাদ সংস্থা আমাক নিউজের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানিয়েছে, লাস ভেগাসে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। হামলাকারীকে নিজেদের ‘সেনা’ দাবি করে সংগঠনটি বলেছে, হামলাকারী ধর্মান্তরিত মুসলিম। তবে সংগঠনটি এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।

সিএনএনের খবরে বলা হয়, মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) আইএসের দাবি নাকচ করে দিয়েছে। তারা বলছে, এই হামলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পর্ক নেই।

পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ হোটেল কক্ষে ঢোকার আগেই সন্দেহভাজন হামলাকারী আত্মহত্যা করেন। পুলিশ ওই কক্ষে ১০টি বন্দুক পেয়ে। ওই হামলাকারীর নাম স্টিফেন প্যাডক। ৬৪ বছর বয়সী স্টিফেন নেভাদার বাসিন্দা। সন্দেহভাজন আরও একজনকে খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, অন্য কেউ হামলার সঙ্গে জড়িত নয়। তবে হামলার রহস্য উদঘাটনে মারিলুউ ড্যানলে নামের এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে আগ্রহের কথা জানিয়েছে লাস ভেগাস পুলিশ। তাকে সন্দেহভাজন না বললেও হামলাকারীর ‘সহচর’ বলা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

comments