X

যেকোনো সময় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে-সু চি

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেয়ার এক দিন পরেই জাপানের পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে সুচি রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার ভূমিকায় আন্তর্জাতিক সমালোচনা প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো আমাদের দেশেও বিরোধী দল রয়েছে। এর অর্থ হল সমালোচনা ও বিতর্ককে আমরা স্বাগত জানাই।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের কড়া সমালোচনার পর মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি বলেছেন, যাচাইয়ের মাধ্যমে আমরা যেকোনো সময় রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করব। এর মানে এই নয় যে দ্রুতই তা শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানান দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সাং সু চি। ।

জাপানের নিকি এশিয়ান রিভিউ পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সুচি আরও বলেছেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশে কেন চার লাখ ১০ হাজার মুসলমান শরণার্থীরা পালিয়ে গেছে সেই কারণ খুঁজতে আরো বেশি সচেষ্ট হবেন তিনি।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সুচি দাবি করেছিলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে রাখাইনে আর কোনো অভিযান হয় নি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি মিথ্যাচার করেন বলে আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে।

জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতারা সুচির বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযানে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সমালোচকরা বলছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধে সুচি ইচ্ছুক নন। এসব সমালোচনা প্রসঙ্গে সুচি বলেন, কোনো কিছুই অবাক করার মতো নয়। কারণ, অন্য সব মতামতের মতো বিশ্ব মতামতও বদলায়।

এদিকে, টাইম ম্যাগাজিনের চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করা হয়েছে রাখাইন সংকট নিয়ে। এতে রোহিঙ্গা সংকটকে ‘মিয়ানমারের লজ্জা’ আখ্যা দিয়ে পত্রিকাটি বলছে, রোহিঙ্গাদের দুর্দশা মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে কলংকিত করেছে।

ওদিকে, মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যের গ্রামগুলোর ঘর-বাড়ি এখনো আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল স্যাটেলাইটের ছবি ও ভিডিও’র প্রমাণ দিয়ে গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

comments