আবারো হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার হুমকি কিমের, জবাবে পাগল বললেন ট্রাম্প

32
শেয়ার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনকে ‘আত্মঘাতী রকেট মানব’ বলেছিলেন। তার এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছিলেন মার্কিন নিরাপত্তা পরামর্শক এইচ আর ম্যাকমাস্টার। তিনি বলেছেন, কিম জং কে এই নামেই ডাকা উচিত। জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, বেশি বাড়বাড়ি করলে এবার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব উত্তর কোরিয়াকে। এর জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে ‘কুকুরের ডাক’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন উত্তর কোরীয় বিদেশমন্ত্রী রি ইয়ং হো। ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণকে ‘কুকুরের ঘেউ ঘেউ’বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বুধবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিনি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগীদের জন্য ‘খারাপ’লাগে। আর শুক্রবার আরও একধাপ এগিয়ে কিম জং বললেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘উন্মাদ’। নিজের সর্বশেষ ভাষণের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে। উত্তর কোরিয়া নিজের সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এর কঠোর পালটা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিমের কথায়, অগ্নিকুণ্ড বর্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে এবং অবশ্যই আমেরিকার মানসিক বিকারগ্রস্ত এই বৃদ্ধকে আমার হাতের মুঠোয় আনব।

কিম প্রশান্ত মহাসাগরে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার হুমকি দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য আমাকে আতঙ্কিত করা বা থামানোর পরিবর্তে আমাকে এটা বুঝিয়েছে যে, আমি সঠিক পথই বেছে নিয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত আমাকে এই একটি মাত্র পথেই চলতে হবে। সারা বিশ্বের চোখের সামনে ট্রাম্প আমাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করে এবং আমাকে ও আমার দেশকে বিচ্ছিন্ন করে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকরভাবে একটি যুদ্ধের ঘোষণা করে দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ যসংস্থা ইয়নহাপ নিউজ এজেন্সি জানায়, ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে যে হুমকি দিয়েছেন তার জবাব দিতে পিয়ংইয়ং প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালাতে পারে। শুক্রবার কিমের এলোপাথাড়ি মন্তব্যের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্যুইট করে জানিয়েছেন, কিম একেবারে পাগল। ও বেশি বাড়াবাড়ি করলে এমন কড়া পদক্ষেপ নেব যে, ও ভাবতেই পারছে না।

এদিকে ট্রাম্প এবং কিমের বাগযুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া এবং চীন।গত কয়েক মাসে উত্তর কোরিয়া ও আমেরিকা ক্রমাগত একে অপরকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া উদ্বেগজনক হারে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার হারও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর জেরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে দেশটির ওপর নতুন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় উত্তর কোরিয়ার বস্ত্র রপ্তানি ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর বাধা-নিষেধ আরোপ করা হয়।

মন্তব্য করুন

comments