রাখাইনে আরসা’র তরফ থেকে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা

61
শেয়ার

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমান বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) একতরফা ভাবেই এক মাসের জন্য অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।আজ রোববার থেকে এই অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) জানিয়েছে, তারা রাখাইনে মানবিক সংকট বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তারা আশা করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীও সেখানে অস্ত্রবিরতি করবে।

শনিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আরসা’র বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অবশ্য রাখাইনের সহিংসতা প্রসঙ্গে মিয়ানমারের সরকারের বক্তব্য তাদের ভাষায়, রোহিঙ্গা জঙ্গি এবং মুসলমান গ্রামবাসীরা নিজেরাই নিজেদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে এবং অমুসলিমদের উপর হামলা চালাচ্ছে।

সম্প্রতি সংঘাতের তীব্রতার কারণে জাতিসংঘসহ অন্তত ২০টি মানবিক সহায়তা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা মিয়ানমারে ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করে। সে সময় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল জাতিসংঘের তরফ থেকে।

এর আগে মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, রাখাইনে সহিংসতার কারণে যেসব রোহিঙ্গা মুসলমান মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তাদের সবাইকে দেশে ফিরতে দেয়া হবে না।

গত ২৪ আগস্ট পুলিশের উপর এই আরসার চালানো হামলার প্রতিক্রিয়াতেই রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু হয়, যার কারণে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

শরণার্থীর স্রোত এখনো অব্যাহত আছে। বহু রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। সীমান্তের দুপাড় জুড়েই তৈরি হয়েছে এক মানবিক পরিস্থিতি।

এরকম পরিস্থিতিতেই আরসা’র তরফ থেকে এসেছে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা।

তারা সাহায্যকারী সংস্থাগুলোতে রাখাইন এলাকায় তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করারও আহ্বান জানিয়েছে।

কিন্তু বিবিসির একজন সংবাদদাতা গত বৃহস্পতিবার রাখাইনে গিয়ে দেখেছেন সেখানে একটি মুসলমান গ্রাম জ্বলছে, যেটিতে অগ্নিসংযোগ করেছে রাখাইনের একদল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

এই ঘটনাটি রাখাইনে চলমান সহিংসতা সম্পর্কে মিয়ানমারের সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক।

এদিকে, মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন – যে রোহিঙ্গা মুসলিমরা বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে তাদের সবাইকে ফিরে আসতে দেয়া হবে না।

মিয়ানমারের পুনর্বাসন বিষয়ক মন্ত্রী ইন মিয়াট আয় বলেন, যে রোহিঙ্গারা প্রমাণ করতে পারবে যে তারা মিয়ানমারে বাস করতো এবং মিয়ানমারের নাগরিক – শুধু তারাই ফিরে যেতে পারবে।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, এর ফলে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে এমন রোহিঙ্গার সংখ্যা হবে খুবই সীমিত – কারণ বেশির ভাগ রোহিঙ্গাকেই নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি।

গত দু সপ্তাহে রাখাইন প্রদেশে সহিংসতা শুরু হবার পর প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

অন্যদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টান্যাশনাল বলছে, তাদের কাছে এমন প্রমাণ আছে যে মিয়ানমার – বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ভূমি-মাইন পেতে রেখেছে।

এর আগে সপ্তাহে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষও এমন দাবি করেছিল। বলা হয়েছিল যে মিয়ানমার থেকে পলায়নরত রোহিঙ্গা মুসলিমরা যাতে আবার সেদেশে ফিরে যেতে না পারে – সে জন্যই সীমান্তে মাইন বসানো হয়েছে।

অ্যামনেস্টি বলছে, তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং তাদের নিজস্ব অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ দাবি করছে। মাইন বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত একজন নিহত ও তিন জন আহত হয়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, আরসা’র এই পদক্ষেপের কারণ এখনও অস্পষ্ট। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীও এক তরফা এই অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মন্তব্য করুন

comments