অবশেষে মুখ খুললেন অং সান সুচি "মানবাধিকার বা গণতান্ত্রিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করার মানে কি হয় তা আমরা অন্যদের তুলনায় বেশ ভালোভাবেই জানি"

170
শেয়ার

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সুচি।

গত ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু হলেও গত ১১ দিনে মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন তিনি। নীবর দর্শকের ভূমিকা পালন করছিলেন। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চির এ মৌনব্রত পালন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে তিনি সম্মানীয় এবং পূজনীয় একজন ব্যক্তিত্ব। অনেকেই ভেবেছিলেন, সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে তার দল ক্ষমতায় আসলে দেশের পরিস্থিতি আমূল বদলে যাবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র জাতি ও ধর্মীয় গোষ্ঠী তাদের অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারবে।কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরে রোহিঙ্গাদের ভাগ্যে আরো খারাপ পরিণতি ঘটেছে।তারপরেও তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বার বার তার সরকার এবং সেনা বাহিনীর পক্ষেই সাফাই গাইলেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চির এমন নীরব অবস্থানকে তার রাজনৈতিক দুর্বলতা হিসেবেই দেখছেন কূটনীতিকরা।

কিন্তু সু চি আর এসব দেখেও নীরব ভূমিকা পালন করছেন এই নোবেল বিজয়ী নেত্রী। তার এমন নীরব অবস্থানকে মেনে নিতে পারছে না বিশ্ব।

সরকার রাখাইন রাজ্যের প্রত্যেককে রক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন সু চি। সেইসঙ্গে সন্ত্রাসীদের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রচুর ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে সু চি সমালোচনা করেছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির প্রধান ও রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির সঙ্গে মঙ্গলবার টেলিফোনে কথা বলেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

তিনি আরো বলেন, মানবাধিকার বা গণতান্ত্রিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করার মানে কি হয় তা আমরা অন্যদের তুলনায় বেশ ভালোভাবেই জানি। আমাদের দেশের সব নাগরিকই তাদের অধিকার রক্ষার দাবিদার, এটা আমরা নিশ্চিত করেছি। এই অধিকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয় বরং সামাজিক এবং মানবিক প্রতিরক্ষারও দাবিদার তারা।

দেশটির স্থানীয় মিডিয়াগুলো বলছে, রাখাইন রাজ্যের সবাইকে বাঁচাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা শুরু করছে বলে সু চি তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসীদের উস্কে দিতে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সমস্যা সৃষ্টি করতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের অনেক ভুল সংবাদ ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তবে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআর’র তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শুরু হয়। গত দুই সপ্তাহে ১ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এছাড়া অনুপ্রবেশের জন্য নো ম্যান্স ল্যান্ডে এখনও হাজার হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন।

মন্তব্য করুন

comments