একনজরে ধর্ষণ থেকে দোষী সাব্যস্ত রাম রহিম সিং

152
শেয়ার

যৌন নির্যাতন-ধর্ষণ-খুন এমনই অভিযোগ রয়েছে ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাবা রাম রহিম সিং ইনসানের বিরুদ্ধে৷ আর ইতিমধ্যেই ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে গুরমিত রাম রহিম৷ হাজার হাজার অনুগামীর বিক্ষোভে হামলায় পরিস্থিতি উত্তাল৷ বহুজন প্রাণ হারিয়েছে৷ আহতও অনেক৷ বাদ নেই শিশু মহিলারাও৷ ভারতের পুলিশ প্রশাসন সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট৷ কিন্তু যাকে ঘিরে এত কিছু সেই ধর্মগুরু রাম রহিম সিং এর এই অন্ধকার দিকের সূচণা কি অনেক আগে থেকেই? কেমন ছিল সাধারণ রাম রহিম? তার বিরুদ্ধে ঠিক কি কি অভিযোগ রয়েছে দেখে সবকিছু একনজরে…

প্রসঙ্গত, গুরমিতের জন্মস্থান রাজস্থানের গঙ্গানগর৷ রাম রহিমের বাবার নাম মঘর সিং৷ মা নসীব কউর৷ ডেরা প্রধান শাহ সতনাম ১৯৯০ সালে অবসর গ্রহণ করেন৷ তারপর ২৩বছর বয়সেই ডেরার প্রধান হয়ে ওঠে রাম রহিম৷ জানা যায়, রাম রহিমের বন্ধুত্ব খালিস্তানের জঙ্গি গুজরন্ত সিং এর সঙ্গে হয়ে গিয়েছিল৷ সেও গঙ্গানগরেরই বাসিন্দা ছিল একসময়৷ মনে করা হয়, রাম রহিমের ডেরা প্রধান হওয়ার পিছনে হাত রয়েছে এই গুজরন্ত সিং এর৷ শোনা যায়, ডেরা সচ্চা সওদা প্রধান মস্তানা জি মহারাজ তাঁর মৃত্যুর চার মাস আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে তিনি সাত বছর পর ফের জন্মগ্রহণ করবেন৷ এও শোনা যায়, রাজস্থানের গঙ্গানগরে একজন পুণ্যাত্মার জন্ম হবে, এমন ভবিষ্যদ্বাণীও শোনা যায়৷

১) ২০০২ সাল, এপ্রিল- এই বছর এপ্রিলে একটি বেনামী চিঠি আসে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টের বিচারপতির কাছে, আর এই চিঠিতেই ফাঁস হয়, সিরসাতে বাবার ডেরায় মহিলা ভক্তদের ওপর যৌন নির্যাতনের মতো চাঞ্চল্যকর বিষয়টি৷ প্রসঙ্গত, ১৯৯৯-২০০১-এ দুই নারীর ওপর যৌন উৎপীড়ন করে এই স্বঘোষিত ধর্মগুরু৷

২) মে- চিঠি পাওয়ার ঠিক পরের মাসেই, অর্থাৎ, মে তে চিঠির ভিত্তিতে সিরসার জেলা এবং দায়রা বিচারককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়৷

৩) সেপ্টেম্বর- চার মাস ধরে তদন্ত চলার পর বিষয়টি সম্পর্কে জেনে এবং তার গুরুত্ব বুঝেই মামলাটি সিবিআই এর হাতে তুলে দেওয়া হয় সিরসা জেলা ও দায়রা আদালত৷

৪) ডিসেম্বর- সেই বছরই ডিসেম্বরে রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়৷

৫) ২০০৭, জুলাই- রাম রহিমের বিরুদ্ধে আম্বালা আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিবিআই৷

৬) ২০০৮- সিবিআই এর বিশেষ আদালত রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চার্জশিট গঠন করে৷

৭) ২০১১- এই বছর এপ্রিল মাসে বিশেষ সিবিআই আদালত আম্বালা থেকে পাঁচকুলায় স্থানান্তরিত করা হয়৷

এরপর মাঝে অনেকটা সময় যায়৷ মামলা চলতে থাকে৷ আর এই চলতি বছরে, ২০১৭তে, অগস্টে সেই বহু প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করা হয়৷ দোষী সাব্যস্ত হয় গুরু রাম রহিম সিং৷ ধর্ষণের মামলায় সিবিআই-এর বিশেষ আদালত তাকে গ্রেফতার করে৷ সোমবার তার শাস্তি ঘোষণা করা হবে৷ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্থানে রাম রহিমের অনুগামীরা তাণ্ডব চালিয়েছে৷ তাদের নিয়ন্ত্রণে নামে পুলিশ থেকে প্রশাসন৷ নিহত থেকে আহতের সংখ্যাও কম নয়৷ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও বসবে এই নিয়ে৷ তবে একজন ধর্ষক যতই নিজেকে ধর্মগুরু বলে প্রভাব বিস্তার করুক, তার অপরাধ যে চাপা থাকবে না, আইনের কাছে যে তাকে মাথা নোয়াতে হবেই, তা যেন ফের একবার প্রমাণ হয়ে গেল, সাম্প্রতিককালের নজিরবিহীন এই ঘটনার মধ্য দিয়ে৷

মন্তব্য করুন

comments