X

ধর্ষণের মামলায় দোষী ‘ধর্মগুরু’ রাম রহিম; বিক্ষোভে নিহত ২৮

দুই অনুসারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ভারতের আলোচিত ‘ধর্মগুরু’ গুরমিত রাম রহিম সিং দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) একটি আদালত আজ শুক্রবার এ রায় দিয়েছেন। আগামী সোমবার তাঁর সাজা ঘোষণা করা হবে। এ অপরাধের শাস্তি হিসেবে রাম রহিমের সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার পর অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন রাম রহিম। দেশটির হরিয়ানা রাজ্যের পুলিশ এরই মধ্যে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। একটি হেলিকপ্টারে করে আদালত থেকে তাঁকে রোহতাক কারাগারে নেওয়ার কথা রয়েছে।

দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরপরই সহিংসতা শুরু করেন রাম রহিম সিংয়ের ভক্তরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়েছে এবং দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

প্রায় ১৫ বছর আগে, ২০০২ সালে রাম রহিমের এক সাবেক নারী অনুসারী এ মামলা করেছিলেন। ওই নারীর অভিযোগ, হরিয়ানার শহর সিরসায় দেরা সাচা সৌদা গোষ্ঠীর প্রধান কার্যালয়ে রাম রহিম তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন করেন। এ মামলার পর রাম রহিমের অজস্র অনুসারী ক্ষোভে উন্মত্ত হয়ে উঠেছিলেন। ১০ বছর ধরে প্রায় ২০০টি শুনানির পর এ মামলার রায় দেওয়া হলো। এই সময়ের মধ্যে অসংখ্যবার উচ্চ আদালত এ মামলার বিচারকাজে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবারের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণ, সংশ্লিষ্ট এলাকা ও পুরো পঞ্চকূলা শহরে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যজুড়ে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং তাদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এমনকি সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রায় শোনার জন্য মোট ২০০টি গাড়ির এক বিশাল বহর নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন রাম রহিম। উপস্থিত ছিলেন তাঁর লক্ষাধিক অনুসারী। গতকাল মধ্যরাতে এই ‘ধর্মগুরু’ এক ভিডিও বার্তায় তাঁর অনুসারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি অনুসারীদের প্রতি শান্ত থাকারও আহ্বান জানান। বর্তমান পঞ্চকূলা শহরে সান্ধ্য আইন জারি আছে।

দামি কাপড় ও গয়না পরার কারণে রাম রহিম ‘গুরু অব ব্লিং’ নামেও পরিচিত। দুটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। এগুলো হলো ‘মেসেঞ্জার অব গড (এমএসজি)’ ও এর সিক্যুয়েল ‘এমএসজি২’।

সহিংসতা শুরুর আশঙ্কায় শুক্রবার সকাল থেকেই পাঁচকুলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে মোতায়েন করা হয় ৫০ হাজার পুলিশ। নিহতের ঘটনা ঘটেছে ওই এলাকাগুলোতেই।

১৪৪ ধারা জারি করার পাশাপাশি ৪৮ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগর ও হনুমানগড়ে। পুলিশ একটি স্টেডিয়ামও অধিগ্রহণ করে রেখেছে বহু লোককে গ্রেফতার করার আশঙ্কায়।

মন্তব্য করুন

comments