পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগ

33
শেয়ার
ছবিঃ আর্কাইভ

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় চূড়ান্ত রায় ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন নওয়াজ শরিফ। আদালতের রায়ে ‘পদে থাকার অযোগ্য’ ঘোষিত হন তিনি।

আজ শুক্রবার (২৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন নওয়াজের পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে রায় ঘোষণার কথা থাকলেও তা আধ ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। বেলা ১২টার কিছু সময় পর বিচারপতি আসিফ সাইদ খোসা রায় ঘোষণা করেন। সর্বসম্মতিক্রমে ঘোষিত রায়ে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ পার্লামেন্ট ও আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি তার দফতরের জন্যও উপযুক্ত বলে গণ্য হননি।’

নওয়াজ শরিফ বরাবরই দুর্নীতির এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসেছিলেন। গত বছর ফাঁস হওয়া পানামা পেপারসে নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম ও ছেলে হাসান-হুসেনের নাম আসে। বিরোধী দলগুলো নওয়াজ পরিবারের সম্পত্তির হিসাব ও দুর্নীতির তদন্ত করতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে দাবি জানায়। দুর্নীতির এই অভিযোগ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের পর সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ শুক্রবার সর্বসম্মত এক রায়ে নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করে।

নওয়াজ শরীফ, তার মেয়ে মরিয়ম, জামাতা সফদর, অর্থমন্ত্রী ইসহাক দারসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নিয়মিত মামলা দায়ের করতে বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে।

এই রায়ের ফলে তৃতীয় মেয়াদেও পুরো সময় ক্ষমতায় থাকা হল না পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল-এন) নেতা নওয়াজ শরীফের। প্রায় এক বছর বাকি থাকতেই তাকে দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে সরে যেতে হল।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানে কোনও বেসামরিক প্রধানমন্ত্রী কখনও পাঁচ বছরের মেয়াদ পুরো শেষ করতে পারেননি। তৃতীয়বারের মতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া নওয়াজের মেয়াদ শেষ হতে আর এক বছরেরও কম সময় বাকি ছিল। আর সেই সময় সময় শেষ হওয়ার আগেই তার বিদায় নেওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি হলো।

এ অবস্থায় ২০১৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত সরকার চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব কার ওপর বর্তাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নওয়াজের ভাই পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে বলে পাকিস্তানের গণমাধ্যম এর খবরে জানা যায়।

নিয়ম অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন দল মুসলিম লিগ (নওয়াজ) এখন স্পিকারের অনুমতি নিয়ে নতুন একজনকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করতে পারবে। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত তিনিই সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন।

এর আগে ১৯৯০ ও ১৯৯৭ সালে দুই বার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় কোনোবারই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি নওয়াজ। দ্বিতীয়বার সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি দেশান্তরিত হয়েছিলেন। তখন বেশিরভাগ সময় তিনি থাকতেন সৌদি আরবে। ২০১৩ সালের নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় আসেন তিনি।

মন্তব্য করুন

comments