চট্টগ্রামে প্রিপেইড মিটারঃ লক্ষ্যমাত্রা দশ মাসের মধ্যে ৭ লাখ

79
শেয়ার

গত শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত বিদ্যুৎ ভবনে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের চারটি প্রি-পেমেন্ট মিটারিং ভেন্ডিং স্টেশনের কালে পিডিবি কর্মকর্তাদের ওপর এই ভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে চট্টগ্রামে সাত লাখ প্রি-পেইড মিটার লাগাতে হবে বলেও নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে সাত লাখ গ্রাহককে প্রি-পেমেন্ট মিটারিং সিস্টেমে দেখতে চাই। তিন বছরের মধ্যে সবখানে প্রি-পেমেন্ট মিটারিং সিস্টেম চালু না হওয়ার বিষয়ে পিডিবির কর্মকর্তাদের অনীহা আর অনিচ্ছাকে দায়ী করে তিনি বলেন, আপনারা প্রিপেইড মিটার লাগাতে চান না, কারণ এতে সিস্টেম লস কমে যাবে। আপনাদের আয়ও কমে যাবে। আমি আর এটা দেখতে চাই না।

তার বক্তব্যের সবচেয়ে বড় ঝড়টা বয়ে গেছে চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেনের ওপর। প্রধান প্রকৌশলীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আগামী মার্চের মধ্যে সাত লাখ গ্রাহককেই প্রি-পেইড সিস্টেমের আওতায় যেন নিয়ে আসা হয় সেটি দেখতে চাই। এর অন্যথা হলে এখানের চীফ ইঞ্জিনিয়ারকে আমি দেখে নেবো।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত সমস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীর নির্ধারিত ইউনিফর্ম থাকতে হবে এবং সমস্ত ক্যাবল আন্ডারগ্রাউন্ড করতে হবে। রিভার ক্রসিং যত ক্যাবল আছে সবগুলো সাবমেরিন করতে হবে, এছাড়া যে কথাগুলো বললাম তা মনে রাখবেন। আগামী মার্চের মধ্যে এই কাজ গুলো না হলে আপনাকে কিন্তু আমি ধরবো।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্ব কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর হাতেই। তিনিই আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সারাদেশকে প্রি-পেইড সিস্টেমের আওতায় আনার জন্য। গত তিন বছর ধরে আপনাদের তা বলে আসছি। কিন্তু আপনারা তা করতে পারেননি।’

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমি চাই প্রি-পেমেন্ট মিটারিং সিস্টেমে বিদ্যুৎ বিক্রির বিষয়টি থার্ড পার্টির কাছে যাক। কিন্তু তা আপনারা করবেন না। দেশ হচ্ছে ডিজিটাল, আপনারা পড়ে আছেন ট্র্যাডিশনালে। আপনারা একের পর এক লোক নেবেন। এই লোক নিয়োগ নিয়েও আবার চলে দুর্নীতি। আমি কথা গুলো ইচ্ছে করে ক্যামেরার সামনে বললাম, যাতে আপনারা লজ্জা পান।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রাহক বাড়াতে হবে। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য কমপক্ষে ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তিন বছরের মধ্যে সবখানে প্রি-পেমেন্ট মিটারিং সিস্টেম চালু করার কথা থাকলেও তিন বছরে করতে পেরেছেন মাত্র এক লাখ। অথচ গ্রাহক আছে সাত লাখ। তার মানে আরও ছয় লাখ গ্রাহকের জন্য ছয় বছর লাগবে। ততদিনে আবার আরও তিন লাখ গ্রাহক বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আমি বারবার বলে আসছি এই বিষয়ে। এই প্রকল্পটি দ্রত বাস্তবায়ন করা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। কিন্তু আপনারা গত তিনবছর ধরে আমাকে হারিকেন দেখিয়ে আসছেন। এসব আর আমি দেখবো না। আগামী মাসেই কনসালটেন্ট নিয়োগ দেন। কনসালটেন্ট তিন মাসের মধ্যে ডিজাইন করে দেবেন। চট্টগ্রামে সাত লাখ গ্রাহক আছেন। সবাই যেন প্রি পেমেন্ট মিটারিং সিস্টেমে আসে।’

প্রি-পেমেন্ট মিটারিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কার্ড সিস্টেমে বিদ্যুৎ বিক্রির কথা বলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৪০ হাজার গ্রাহককে সার্ভ করার জন্য এখন ১৪ জন লোক লাগে। এর মধ্যে কেউ আসবে, কেউ যাবে টয়লেটে, কেউ ঘুরবে-স্বাভাবিকভাবে যা হয় আর কি।’

প্রি-পেমেন্ট মিটারিং সিস্টেমের অনলাইন পেমেন্ট নিয়ে কাজ করা চীনের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে নসরুল হামিদ বলেন, ‘আপনারা এক মাসের মধ্যে পাইলট প্রজেক্টটির কাজ শুরু করবেন। আমি আগামী মাস থেকে সেটি দেখতে চাই। প্রকল্পটি এমনভাবে সাজাবেন, যেন বেশি প্রযুক্তি এবং বেশি মানুষের প্রয়োজন না পড়ে। গ্রাহকরা বাড়ি থেকে অনলাইনে পেমেন্ট করবেন, মোবাইলে পেমেন্ট করবেন।’

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ এর সভাপতিত্বে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ পিডিবি চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী চারটি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রি-পেমেন্ট মিটারিং ভেন্ডিং স্টেশনের উদ্বোধন করেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী আগ্রাবাদের প্রি-পেমেন্ট মিটারিং ভেন্ডিং স্টেশন ও পাহাড়তলী প্রি-পেমেন্ট মিটারিং ভেন্ডিং স্টেশন পরিদর্শনে যান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ‘ভালোর পথে’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি জানি সারা দেশে খুব ক্রাইসিস যাচ্ছে। আপনারা লক্ষ্য করেছেন আজ থেকে (গতকাল শুক্রবার) বিদ্যুৎ পরিস্থিতি একটু ভালো হয়েছে। আমরা আরও ভালোর দিকে যাব।

ঝড়ের কারণে মেঘনাঘাটে সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার ধসে যাওয়ার কারণে সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়াও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন কারণে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান সংকট স্বাভাবিক। কারিগরি ত্রশুটির কারণে আমাদের বেশ কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। মেঘনাঘাটে টাওয়ার পড়ে গেছে। তবে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আশা করছি, রমজানের মধ্যে আমরা ভালো অবস্থায় চলে যাব।

মন্তব্য করুন

comments