X

স্থাপত্যশৈলীর দারুন এক নিদর্শন চন্দনপুরা জামে মসজিদ

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১৬ নং চকবাজার ওয়ার্ডের নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সড়কের চন্দনপুরা অংশে অবস্থিত চন্দনপুরা জামে মসজিদ। বাংলায় মোঘল শাসনামলে এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর করা হয়েছে বলে ধারনা করা হলেও মুলত বৃটিশ শাসনামলে ১৯৫৭ সালে মোঘল স্থাপত্য ঘরনায় মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু হয় এবং তা সম্পন্ন হয় ১৯৫২ সালে। বর্তমানে পরিবেশের বিরূপ প্রভাবের কারনে বিশেষত বায়ু দূষণের ফলে এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপণাটি বাহ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মসজিদটির বিপরীতে একটি অগ্নি নির্বাপণ কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রের লাল ভবনটিও ইংরেজ স্থাপত্যশৈলীর একটি নজরকাড়া নিদর্শন।

সত্তরের দশকে মসজিদের মিনারে উঠে আযান দিচ্ছেন মুয়াজ্জিন

চট্টগ্রামের অতীত ঐতিহ্যের নির্দশনের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যময়, শৈল্পিক মানসম্পন্ন চন্দনপুরা মসজিদের খ্যাতি দেশে-বিদেশে রয়েছে। তাছাড়া জাপানের এশিয়া ট্রাভেল ট্যুর ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে এই মসজিদের ছবি ছাপানো হয়েছে। বিদেশী পর্যটকদের অত্যতম আকর্ষণ এই মসজিদ। প্রতিদিন বহু পর্যটক এখানে আসেন মসিজিদটির সৌন্দর্য এবং কারুকার্যময় নির্মাণশৈলী অবলোকন করার জন্য।

চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্র চন্দনপুরা এলাকায় এই বিখ্যাত মসজিদটি অবস্থিত। মাস্টার হাজী আব্দুল হামিদ এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন বলে তাঁর নামানুসারে এই মসজিদের নামকরণ করা হয় হামিদিয়া তাজ মসজিদ।
বৃটিশ শাসন আমলে হাজী আব্দুল হামিদ এই মসজিদের সংস্কার কাজে হাত দেন। দীর্ঘ তিন বছর ধরে দেশী-বিদেশী অভিজ্ঞ কারিগর দিয়ে প্রায় পাঁচ একর জায়গার উপর এই মসজিদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয় ১৯৫০ সালের দিকে। এই মসজিদ নির্মাণের জন্য তৎকালীন সময়ে ব্যয় হয়েছিল চার লক্ষ টাকা। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এই মসজিদের নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই মসজিদে সর্বমোট ১৫টি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের বড় গম্বুজটি নির্মাণ করতে ১০ টন পিতল লেগেছিল।

মন্তব্য করুন

comments